চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে ‘বার্মা সাইফুল’কে সহযোগীসহ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার সহযোগী শিহাব উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে সাইফুলকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে পুলিশ। সিএমপি জানায়, বার্মা সাইফুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ২টি, প্রতারণায় ২টি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ে ৫টি, অপহরণে ১টি, দস্যুতায় ১টি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩টি, বিস্ফোরক আইনে ২টি এবং মারামারি ও জখম সংক্রান্ত ১৮টিসহ মোট ৩৪টি মামলা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে আরও ৭টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ঝুলে আছে।
গ্রেপ্তার হওয়া সহযোগী শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার ৫টি ও দস্যুতার ১টি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এদিকে, একই দিনে পাঁচলাইশ মডেল থানার পৃথক অভিযানে সাইফুলের আরও দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী—রিয়াদ হোসেন (২৮) ও মীর হোসেন ওরফে লিংকন (৩১)—কে নগরের হিলভিউ এলাকা থেকে আটক করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের বিরুদ্ধে চুরি ও দস্যুতাসহ ৫টি এবং লিংকনের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ৫টি মামলা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, সাইফুল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
উল্লেখ্য, সাইফুল গ্রেপ্তার নিয়ে শুরুতে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। গত সোমবার তার ভাই ফাহিম অভিযোগ করেন, চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থানকালে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একজন পুলিশ সদস্য তাকে ফোনে জানান। তবে পরে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় পরিবার বিভ্রান্তিতে পড়ে। সে সময় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
পুলিশ জানায়, এর আগেও অস্ত্র, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বার্মা সাইফুল একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি