স্পোর্টস ডেস্ক: বৃহস্পতিবার দুই ম্যাচ বয়কটের পর শুক্রবার থেকেই আবার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে ক্রিকেটাররা বৃহস্পতিবার দুই ম্যাচে অংশ নেননি। তবে রাতের বৈঠকের পর সমঝোতার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা দূর হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান গুলশানের নাভানা টাওয়ারে বিসিবি কার্যালয়ে কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনসহ সংবাদ সম্মেলনে জানান, শুক্রবার থেকে মাঠে খেলা শুরু হবে। একই সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের সভাপতি দর্শকদের অসুবিধার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিসিবি কর্মকর্তারা। পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে ক্রিকেটাররাও গুলশানের নাভানা টাওয়ারে উপস্থিত হন। বৈঠকের পরই ক্রিকেটাররা খেলার জন্য সম্মত হন।
দুপুরে বয়কট হওয়া ম্যাচগুলো—নোয়াখালী এক্সপ্রেস বনাম চট্টগ্রাম রয়্যালস এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম সিলেট টাইটানস—শুক্রবার দুপুর ২টা ও সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবারের পূর্বনির্ধারিত ম্যাচগুলো শনিবার (১৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী ম্যাচসমূহ। বৃহস্পতিবার খেলার টিকিট কাটা দর্শকরা চাইলে গোবিসিবিটিকেট ওয়েবসাইট থেকে টিকিটের টাকা ফেরত নিতে পারবেন।
এছাড়া এলিমিনেটর ও কোয়ালিফায়ার-১ ম্যাচটি ১৯ জানুয়ারি হওয়ার কথা থাকলেও তা ২০ জানুয়ারি নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ও ফাইনালের সূচি আগের মতোই বজায় থাকবে।
বৃহস্পতিবার শূন্য মাঠে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামকে বিশেষভাবে বিষণ্ন মনে হচ্ছিল। কারণ, ক্রিকেটাররা বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে মাঠে উপস্থিত ছিলেন না। বিসিবির অর্থ বিভাগের প্রধান নাজমুল ইসলাম একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যার কারণে ভারতীয় বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলতে না গেলে ক্রিকেটাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না—এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকেলে বিসিবি তাঁকে অর্থ কমিটির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নাজমুলকে মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তবে দাবি পূর্ণ না হলেও ক্রিকেটাররা মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ক্রিকেটের স্বার্থে আমরা শুক্রবার থেকে খেলা শুরু করছি। বিসিবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি যা সকল খেলোয়াড় ও সদস্য গ্রহণ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখার রহমান জানান, নাজমুল ইসলামের সঙ্গে এখনো সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আজকের জন্য দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দিতে বাধ্য। শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া এরপরও চলবে।
দুপুরে কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটাররা খেলা বয়কটের পেছনে আরও চারটি কারণ উল্লেখ করেন—ঢাকার ক্রিকেটের চলমান সংকট, নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি অভিযোগ, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা। সকল বিষয় দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।