চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় প্রকাশিত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন (২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত হালনাগাদ তালিকায় এই তথ্য উঠে এসেছে। জোটভিত্তিক আসন সমঝোতার কারণেও একাধিক প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। বিশেষ করে জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর কিছু প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।
চট্টগ্রাম-২ আসনে মো. ওসমান আলী বাংলাদেশের সুপ্রিম পার্টি (বি.এস.পি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। একই আসনে এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
চট্টগ্রাম-৫ আসনে সৈয়দ মুক্তার আহমেদ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে প্রতিদ্বন্দ্বী থাকেন ৬ জন। চট্টগ্রাম-৬ আসনে গোলাম আকবর খোন্দকার বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকেন ৪ জন।
চট্টগ্রাম-৭ আসনে মো. আবুল কালাম খেলাফত মজলিস থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে সরে দাঁড়ান। চট্টগ্রাম-৯ আসনে মো. নেজাম উদ্দীন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।
চট্টগ্রাম-১১ আসনে মোহাম্মদ লোকমান আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। চট্টগ্রাম-১২ আসনে এমদাদুল হাসান গণঅধিকার পরিষদ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মোহাম্মদ ইমরান খেলাফত মজলিস থেকে সরে দাঁড়ান। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি থেকে এবং মুহাম্মদ মুসা বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, জোটভিত্তিক নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেই এসব মনোনয়ন প্রত্যাহার হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন একটি জোটে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৩০টি আসন। অন্যান্য শরিকদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি এবং নেজামে ইসলামী পার্টি ২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এই সমঝোতার কারণে সংশ্লিষ্ট দলের প্রার্থীরা নির্ধারিত আসন ছাড়া অন্য জায়গা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটেও আসন সমঝোতার প্রভাব পড়েছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসন নিজেদের রেখে বাকি আটটি আসনে শরিক দলগুলোকে ছাড় দিয়েছে। এর মধ্যে জমিয়তে উলামা চারটি এবং নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ একটি করে আসনে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। এ কারনেও কিছু আসনে জোট শরিকদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের এসব ১৬টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জনে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই চূড়ান্ত তালিকার ভিত্তিতেই ব্যালট প্রস্তুতসহ পরবর্তী নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
রিপোটার্স ২৪/এসসি