| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

তরুণদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ ইং | ১৫:০৬:৩২:অপরাহ্ন  |  ৭৭৫৩৭১ বার পঠিত
তরুণদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশে তরুণ ও অবিবাহিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি (এইডসের ভাইরাস) সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন শনাক্ত হওয়া এইচআইভি আক্রান্তদের ৪২ শতাংশই তরুণ-তরুণী, যেখানে ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। এই ঊর্ধ্বগতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ২১৯ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ার পেছনে একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, ইনজেক্টেবল ড্রাগের ব্যবহার, কনডমসহ সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারে অনীহা এবং যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব। সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে এসব বিষয়ে আলোচনা সীমিত থাকায় কৌতূহল ও ভুল ধারণা তরুণদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক তরুণ বলেন, অন্যের ব্যবহৃত সুচ যে এতটা ভয়ংকর হতে পারে, সেটা আমি জানতাম না। জানলে কখনোই এই ঝুঁকি নিতাম না।

আরেক তরুণ বলেন, আমাদের নিয়ে সমাজে শুধু নৈতিকতার কথা বলা হয়, কিন্তু নিরাপত্তা আর সচেতনতার কথা খুব কমই উঠে আসে। ইউএনএইডস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান জানান, তরুণদের মধ্যে অসচেতনতা ও রোমাঞ্চের আকর্ষণ অনেক ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের জন্ম দিচ্ছে। 

সচেতনতা তৈরি এবং নিরাপদ যৌন আচরণ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হলে এইচআইভি সংক্রমণ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক লজ্জা ভাঙা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা জোরদার করা এবং তরুণদের লক্ষ্য করে ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করলে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও অনেক কমে যায়। তবে বাস্তবতা হলো, অনেক তরুণ আক্রান্ত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পরীক্ষা করাতে চান না। সামাজিক ভয় ও লজ্জার কারণে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করেন তারা।

রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এক এইচআইভি আক্রান্ত তরুণ বলেন, আমি এখন নিয়মিত ওষুধ নিচ্ছি। কিন্তু আমার মতো ভুল যেন আর কেউ না করে।

সমাজতত্ত্ব ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার, নগরায়ণ ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রভাবে তরুণদের মধ্যে যৌনতার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, কিন্তু তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সচেতনতা তৈরি হয়নি। মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রযুক্তির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো তরুণদের কাছে সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আরও বলেন, স্কুল পর্যায়ে প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যকর তদারকি জরুরি।”

উল্লেখ্য, এ বিষয়ে ২৪ জানুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪