গাইবান্ধা প্রতিনিধি: জামায়াত নেতাকর্মীরা জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও দেশেই ছিলেন, বিদেশে মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে যাননি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যে দলের নেতারা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসে, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় না।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে অর্থের বিনিময়ে বিচার কেনা যায় না। যেখানে ধনী-গরিব-শিক্ষিত সবার জন্য অধিকার সমান হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কৃষিকে আর পুরান ধাঁচে চালানো হবে না। আধুনিকায়ন করে আধুনিক লজিস্টিক সরবরাহ করে ন্যায্যমূল্যে কৃষকের হাতে পৌঁছে দিয়ে আমরা কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে তুলব।”
জামায়াত আমির অভিযোগ করে বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর বাজারে তা সঠিক মূল্যে পাওয়া যায় না। সংরক্ষণের অভাবে অনেক সময় উৎপাদিত ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এসব সমস্যা সমাধান করে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, “ফসল ও সবজির সংরক্ষণও নিশ্চিত করা হবে। বিভিন্ন স্থানে ফসল ও সবজির সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে।”
শফিকুর রহমান আরও বলেন, “হ্যাঁ, জয়যুক্ত না হলে রংপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে আমাদের বেঈমানি করা হবে। আবু সাঈদরা বুক পেতে দিয়েছিল স্বৈরাচার হটানোর জন্য।”
তিনি বলেন, “জামায়াত নির্বাচিত হলে পাঁচ বছরের জন্য যারা চাঁদাবাজি করছেন, তাদের কাজ দিয়ে সম্মানিত করব। তাদের আর চাঁদাবাজি করতে হবে না। আমরা দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”
জামায়াত আমির আরও বলেন, “কাউকে ভাতার লোভ দেখিয়ে ভোট চাই না, কাজ দিয়ে দেশকে বেকারমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিতে চাই। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আমরা বেকার যুবক-যুবতীদের কাজের ব্যবস্থা করে দেব।”
তিনি বলেন, “জামায়াত নেতাকর্মীরা জুলুম নির্যাতন সহ্য করে দেশেই ছিলেন। দেশ থেকে কোথাও মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে যাননি। যে দলের নেতারা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসে তারা দেশ ছাড়ে না।”
শফিকুর রহমান গাইবান্ধা জেলায় ইপিজেড নির্মাণ, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বালাশীঘাট ঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত টানেল নির্মাণ, প্রত্যেক উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো আধুনিকীকরণ, রাজধানীর মতো শিক্ষার মান বাড়াতে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ, চরাঞ্চলের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। এতে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাগপা সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম জুয়েল, শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ সিগবা, পাঁচ আসনের মনোনীত প্রার্থীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জনসভা শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমির গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন। এ সময় তিনি তাদের পক্ষে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট চান।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা