স্পোর্টস ডেস্ক: টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য আবেদন করা শতাধিক বাংলাদেশি গণমাধ্যমকর্মীর অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইসিসির এ সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার(২৭ জানুয়ারি) পূর্বাচলের ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিসিডিএম চ্যালেঞ্জ কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন এ বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, গতকাল (সোমবার) এ সিদ্ধান্ত এসেছে। এরপরই আমরা আইসিসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ হলেও আমরা এর কারণ জানতে চেয়েছি।
১৯৯৯ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে তার আগেও বিভিন্ন বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট কাভার করে আসছেন দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা। এমনকি ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ কিংবা ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ দল অংশ না নিলেও বাংলাদেশি গণমাধ্যমকর্মীরা মাঠে উপস্থিত ছিলেন।
এই বাস্তবতার কথা তুলে ধরে আমজাদ হোসেন বলেন, বিশ্বকাপ কাভার করার ক্ষেত্রে দেশের অংশগ্রহণই একমাত্র শর্ত নয়। ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ খেলেনি, তারপরও আমাদের সাংবাদিকরা সেখানে ছিলেন। এমনকি ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কখনো খেলেনি, কিন্তু আমাদের সাংবাদিকরা নিয়মিত কাভার করেন।
বিশ্বকাপ কাভারের জন্য আবেদন করা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের আবেদন সোমবার দুপুরের পর থেকে ফিরতি ই-মেইলে প্রত্যাখ্যান করে আইসিসি। বিষয়টি নিয়ে বিসিবির অবস্থান ব্যাখ্যা করে আমজাদ হোসেন বলেন, পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে আমাদের গণমাধ্যমকর্মীদের এই সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল। আমরা তৃতীয় সর্বোচ্চ ভিউয়ার দেশ। বাংলাদেশ খেলুক বা না খেলুক, বিশ্বকাপ তো হচ্ছে সেটা আমাদের দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সাংবাদিকদের।
বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তের সঙ্গে অ্যাক্রেডিটেশন ইস্যু জড়ানো ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমরা নিরাপত্তা ইস্যুতে নির্দিষ্ট ভেন্যুতে না খেলার শর্ত দিয়েছিলাম, পুরো বিশ্বকাপ বয়কট করিনি। বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা গ্রহণ করা হয়নি। এরপর আমরা সরে এসেছি। এর সঙ্গে সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন না দেওয়ার বিষয়টি মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি