রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা দারুণ উদ্বেগের মধ্যে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান IQAir–এর সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় ঢাকার বায়ুমানের স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৬০, যা পরিবেশগত মানদণ্ডে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে শীতকালে ঢাকার বাতাসের গুণমান বারবার নিচে নামে। চলতি বছর প্রায় প্রতিদিনই এই শহরের নাম দূষণের তালিকার শীর্ষে এসেছে।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সর্বাধিক দূষিত শহরগুলোর মধ্যে কলকাতা ২৯২ স্কোর নিয়ে প্রথমে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (২৬৩ স্কোর) এবং চতুর্থ স্থানে মিশরের কায়রো (২০২ স্কোর)।
ঢাকার এই অস্বাভাবিক দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন অসুস্থতার সঙ্গে সংগ্রামরত মানুষদের জন্য এটি বিপজ্জনক। বায়ুমানের সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০–৫০ হলে বাতাসকে ‘ভালো’, ২০১–৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। ঢাকার বর্তমান স্কোর এই সীমার মধ্যে থাকায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বাড়ির ভেতরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অপরদের জন্যও বাড়ির বাইরে শারীরিক কার্যক্রম সীমিত রাখা এবং মাস্ক ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বায়ুমান ৩০০ অতিক্রম করলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকার বাতাসকে বিষাক্ত করার মূল কারণ হলো অপরিকল্পিত নির্মাণ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শুষ্ক মৌসুমের ধূলিকণা, এবং রাস্তায় নিয়মিত পানি ছিটানোর অভাব।
আন্তর্জাতিক সূচকটি মূলত PM 2.5 নামক অতি ক্ষুদ্র ধূলিকণার উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তে মিশে যেতে পারে। নাগরিকদের জন্য এই নীরব ঘাতক থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি নজরদারি শক্তিশালী করা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম