আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতেই এই সফর বলে জানিয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে গেলেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন কিয়ার স্টারমার। বৈঠক শেষে উভয় দেশ ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়। শি জিনপিং বলেন, অতীতে চীন-যুক্তরাজ্য সম্পর্কে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল, তা কোনো দেশের স্বার্থেই ছিল না। বর্তমান জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।
স্টারমার বৈঠকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং কঠিন সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীন ও যুক্তরাজ্যের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি আগামী দিনে সাংহাই সফর করবেন, যেখানে ব্রিটিশ ও চীনা ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
এই সফরে স্টারমারের সঙ্গে প্রায় ৬০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রয়েছে, যার মধ্যে এইচএসবিসি ব্যাংক, জিএসকে, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল থিয়েটারের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত। সফরের আগে এক সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেন, চীনে যুক্তরাজ্যের ব্যবসার জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।
স্টারমার এই সফরকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ‘বাস্তববাদীভাবে পুনর্গঠনের উদ্যোগ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, পছন্দ হোক বা না হোক, চীন যুক্তরাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে সহযোগিতার পাশাপাশি মতবিরোধের বিষয়গুলো নিয়েও খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে ধীরগতির প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ব্রেক্সিটের ফলে যুক্তরাজ্যের জিডিপি ৬ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন যুক্তরাজ্যের জন্য একটি সম্ভাব্য বড় অর্থনৈতিক অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।
তবে মানবাধিকার ইস্যু, হংকং পরিস্থিতি, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এবং ইউক্রেন যুদ্ধে চীনের অবস্থান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এসব বিষয়ে স্টারমার কোনো বড় ছাড় আদায় করতে পারবেন না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও কিছু সমঝোতার ইঙ্গিত মিলেছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে সিনথেটিক মাদক পাচার রোধ এবং ইংলিশ চ্যানেলে মানবপাচারে ব্যবহৃত নৌযানের ইঞ্জিন সরবরাহ বন্ধে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং চীনা উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো হবে।
সামগ্রিকভাবে, কিয়ার স্টারমারের এই সফরকে চীন-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে অর্থনৈতিক স্বার্থ, কূটনৈতিক ভারসাম্য ও নিরাপত্তা ইস্যু—সবকিছুই গুরুত্ব পাচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: আল জাজিরা