বেনাপোল প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যশোর-১ (শার্শা) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মূল লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই শক্তিশালী ও অপরাজিত প্রার্থী। আওয়ামী লীগের কার্যত অনুপস্থিতিতে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত হয়ে পড়েছে এই দুই দলের মধ্যেই।
১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত যশোর-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এই আসনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে আসনটির গুরুত্ব সবসময়ই বেশি।
ইতিহাস বলছে, ১২টি সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ ৭ বার, বিএনপি ৩ বার এবং স্বতন্ত্র ও জামায়াত একবার করে বিজয়ী হয়েছে। তবে হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনীতির দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন কোণঠাসা থাকা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আবার মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান। উভয় প্রার্থীই ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেন্দ্রভিত্তিক সভা, মতবিনিময়, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ—সব দিক থেকেই চলছে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা।
তরুণ ভোটারদের মধ্যে নুরুজ্জামান লিটনের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ করলেও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ না থাকায় তিনি পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে মাওলানা আজীজুর রহমান সর্বদলীয় গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা এবং বেনাপোল বন্দরকে উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি।
জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী থাকলেও মাঠপর্যায়ে তাদের তেমন প্রভাব নেই; প্রচার কার্যক্রম মূলত মাইকিংয়েই সীমাবদ্ধ।
সীমান্ত এলাকার চোরাচালান, সন্ত্রাস, বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের অভাব—এসব ইস্যুই ভোটের মাঠে প্রধান আলোচনার বিষয়। প্রার্থীরা এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন ভোটারদের।
সব মিলিয়ে যশোর-১ আসন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘নির্বাচনী হটস্পট’। স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হচ্ছেন, তা জানা যাবে ভোটের ফল ঘোষণার পরই।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি