| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সমুদ্রতলে ক্ষেপণাস্ত্র, পানির নিচে মিসাইল সুড়ঙ্গ উন্মোচন করল ইরান

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ ইং | ০৯:৪৭:৫০:পূর্বাহ্ন  |  ৬৬৯৩৮০ বার পঠিত
সমুদ্রতলে ক্ষেপণাস্ত্র, পানির নিচে মিসাইল সুড়ঙ্গ উন্মোচন করল ইরান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামরিক শক্তির নতুন বার্তা দিল ইরান। দেশটি প্রথমবারের মতো সমুদ্রের নিচে নির্মিত একটি বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক প্রকাশ করেছে, যেখানে শত শত দীর্ঘপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তানগসিরি সমুদ্রতলের গভীরে নির্মিত একাধিক সুড়ঙ্গঘেরা ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ভেতরে অবস্থান করছেন। তার পেছনে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত আধুনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।

ভিডিওতে তানগসিরি জানান, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে টহলরত মার্কিন নৌবহর মোকাবিলার উদ্দেশ্যেই এই পানির নিচের ক্ষেপণাস্ত্র টানেল নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সুড়ঙ্গে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার শত শত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে, যা যে কোনো সময় নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, আইআরজিসি নৌবাহিনীর তৈরি ‘কাদের ৩৮০ এল’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে রয়েছে উন্নত স্মার্ট গাইডেন্স প্রযুক্তি, যা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে অনুসরণ করতে সক্ষম। তানগসিরি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং যেকোনো মাত্রা ও যেকোনো ভৌগোলিক অঞ্চলের হুমকি মোকাবিলায় দেশটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে কড়া বার্তা দেয় ইরানি নৌবাহিনী। আইআরজিসি নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপপ্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বলেন, আকাশপথ, পানিপথ ও সমুদ্রতল সব ক্ষেত্রেই হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তার ভাষায়, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ থাকবে কি না, তা পুরোপুরি তেহরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আকবরজাদেহ জানান, হরমুজ প্রণালীর আকাশ, পানি ও সমুদ্রতলের প্রতিটি গতিবিধি ইরান রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখছে। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজের অবস্থান ও চলাচল শনাক্ত করতে সক্ষম ইরানি বাহিনী।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়, যা বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি। ফলে হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আকবরজাদেহ স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে যদি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠোর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে। তিনি দাবি করেন, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইরানের প্রস্তুতি এখন ‘অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।

একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিও সতর্কবার্তা দেন তিনি। বলেন, ইরান তাদের বন্ধুর চোখে দেখে, কিন্তু যদি কোনো দেশের আকাশসীমা, স্থলভাগ বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, তবে সে দেশকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ ইরানি গণমাধ্যমগুলো মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌযানের বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে ২০১৬ সালে ইরানের জলসীমায় অনুপ্রবেশের পর ১০ জন মার্কিন নাবিক আটক হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি রণতরী লক্ষ্য করে হামলার সম্ভাব্য দৃশ্যের সিমুলেশন দেখিয়ে বার্তা দেওয়া হয়, শিরোনাম দেওয়া হয় ‘আব্রাহাম লিংকনের জন্য তাৎক্ষণিক বার্তা’।

খবর: নিউ আরব


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪