রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বলিউডের শক্তিশালী অভিনেত্রী রানি মুখার্জি শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও স্পষ্টভাষী ও দৃঢ় অবস্থানের জন্য পরিচিত। নারী অধিকার, লিঙ্গ বৈষম্য এবং পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়ে বরাবরই তিনি খোলামেলা কথা বলেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এসব বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রানি জানালেন, একজন নারীর প্রতি সম্মান দেখানোর শিক্ষা শুরু হওয়া উচিত পরিবারের ভেতর থেকেই।
রানি বলেন, সমাজে একজন নারী কতটা মর্যাদা পাবেন, তার ভিত্তি তৈরি হয় পরিবারে পুরুষ সদস্যদের আচরণের মধ্য দিয়ে। তার মতে, একজন ছেলে ছোটবেলা থেকেই তার বাবার আচরণ পর্যবেক্ষণ করে শেখে। তিনি বলেন, যখন একটি ছেলে তার বাবাকে মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে দেখে, তখন তার মনে গেঁথে যায় মায়ের সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা যায়, তবে অন্য নারীদের সঙ্গেও সেটাই স্বাভাবিক।
তিনি আরও বলেন, পরিবারে নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দায়িত্ব পুরুষদেরই বেশি। কারণ সন্তানরা পরিবেশ থেকেই শিক্ষা নেয়। রানির ভাষায়, যদি ঘরে মাকে সম্মান করা হয়, তবেই একটি ছেলে বুঝতে পারে সমাজে নারীদের অবস্থান ও মর্যাদা কী।
পারিবারিক কলহ ও উচ্চস্বরে কথা বলার প্রবণতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রানি স্পষ্ট করে বলেন, একজন পুরুষের কখনই তার স্ত্রীর ওপর অযথা চিৎকার করা উচিত নয়। তার মতে, সব নৈতিক শিক্ষা ঘর থেকেই শুরু হয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, একজন নারীরও উচিত অন্যায় হলে নিজের কণ্ঠ তুলে ধরা এবং নিজের সম্মানের পক্ষে দাঁড়ানো।
ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে রানি মজার ছলে স্কুলজীবনের একটি স্মৃতিও শেয়ার করেন। তিনি বলেন, “স্কুলে আমি মাত্র একজন ছেলেকেই চড় মেরেছিলাম, বাকিরা সবাই ছিল আমার বন্ধু।” এরপর হাসতে হাসতে যোগ করেন, “তবে এসব শুনে আবার আমার স্বামী আদিত্য চোপড়াকে গিয়ে জিজ্ঞেস কোরো না, এখন বাড়িতে আমার সঙ্গে কী হয়!”
রানির এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ইতোমধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তার কথাগুলো শুধু তারকা হিসেবে নয়, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম