আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় কোনো দর্শনার্থী বা আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তার পরিবার ও দলের পক্ষ দাবি করছে, এটি করা হয়েছে তাঁর বার্তাগুলো বিশ্বের কাছে পৌঁছানো রোধ করার জন্য। তারা সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে দায়ী করছেন। যদিও সরকার ও সেনাবাহিনী এটি অস্বীকার করেছে।
ইমরান খান শুধু একা নয়, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ভিন্নমত প্রকাশকারী আরও অনেকে চাপের মুখে রয়েছেন।
মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি এবং তার স্বামী সম্প্রতি রাষ্ট্রবিরোধী সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ১০ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি। পাকিস্তানের মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই দণ্ডকে “ভিন্নমত দমন ও মানবাধিকারকর্মীদের ভয় দেখানোর” অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
সাংবাদিকরাও এই চাপের মুখে রয়েছেন। ২০২৩ সালে পাকিস্তানের কিছু টেলিভিশন চ্যানেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়, ইমরান খানের নাম বা কণ্ঠস্বর প্রচার না করতে। এ কারণে সংবাদকর্মীদের অনেককে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবেদন করতে ব্যর্থ হতে হচ্ছে। দেশটির কিছু সাংবাদিক ও অনলাইন কন্টেন্ট নির্মাতাও ‘ডিজিটাল সন্ত্রাসবাদ’ অভিযোগে সাজা পেয়েছেন; এর মধ্যে দুইজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরসিপি জানিয়েছে, তাদের কর্মীদের ফোনে হয়রানি করা হচ্ছে এবং অনুমতি ছাড়া হোটেলে বৈঠক করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তারা মনে করছেন, আদালত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক প্রভাব এতটা বৃদ্ধি পেয়েছে যে বেসামরিক সরকারের স্বাধীনতা সীমিত হয়েছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে আজীবন বিচারিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি এই প্রভাবকে আরও দৃঢ় করেছে।
ইমরান খানের পরিবার বলছে, সরকার এবং সামরিক নেতৃত্ব এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে জনমতকে একপক্ষীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। টেলিভিশনে দুটি নাম থাকতে পারে না, ইমরান খানের বিষয়ে ভালো বলা যাবে না, আর আসিম মুনির সম্পর্কে খারাপ বলা যাবে না, বলছেন আলেইমা খানম, ইমরান খানের বোন।
এছাড়া, পাকিস্তানের প্রাচীনতম পত্রিকা ডন-সহ অনেক সংবাদমাধ্যম আর্থিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। সরকারি বিজ্ঞাপন হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলে মিডিয়া গ্রুপগুলো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের দমননীতি পাকিস্তানের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ। সাংবাদিকরা বলছেন, আমরা স্বাধীনতা হারাচ্ছি না, আমরা নিজেরাই পাঠক ও দর্শকদের প্রতারিত করছি।
সংক্ষেপ: পাকিস্তানে ইমরান খান ছাড়াও মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক এবং অনলাইন কন্টেন্ট নির্মাতারা সামরিক ও সরকারী চাপের মুখে রয়েছেন। ভিন্নমত প্রকাশ, প্রতিবাদ এবং সমালোচনামূলক কণ্ঠ দমন করা হচ্ছে, যাতে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতা সীমিত হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি