শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম (৪০) নিহতের তিন দিন পর শুক্রবার রাতে ঝিনাইগাতী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী মোছা. মার্জিয়া (৩৪) বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ২৩৪ জনকে ব্যক্তিগতভাবে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে মামলায় কে কে আসামি, তার বিস্তারিত তথ্য তিনি জানাতে পারেননি। সূত্রের খবর, মামলায় বিএনপির কয়েকজন হেভিওয়েট নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের নাম রয়েছে। পুলিশও এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, রেজাউল করিমের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে শেরপুর জেলা সদরে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিসি গেটে শেষ হয়। সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শেরপুর-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, জেলা জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল নুরুজ্জামান বাদল, শেরপুর-২ ও ৩ আসনের বিভিন্ন প্রার্থী এবং জেলা এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দ।
জামায়াত নেতারা সমাবেশে হুমকি উচ্চারণ করে বলেন, রেজাউল হত্যাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে জেলার সব কার্যক্রম স্থগিত করা হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া আগামী দিনে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামে শহীদ রেজাউলের জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজনের ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী উপজেলায় নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হন এবং গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া রেজাউল করিম রাতেই মারা যান।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম