| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এনজোর শেষ মুহূর্তের গোলে রুদ্ধশ্বাস চেলসির প্রত্যাবর্তন

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০১, ২০২৬ ইং | ০৯:৪৭:৫৪:পূর্বাহ্ন  |  ৬০৬২৭২ বার পঠিত
এনজোর শেষ মুহূর্তের গোলে রুদ্ধশ্বাস চেলসির প্রত্যাবর্তন

স্পোর্টস ডেস্ক: চেলসিকে বোঝা সত্যিই কঠিন। এক ম্যাচেই তারা চরম বিশৃঙ্খলা থেকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প রচনা করতে পারে। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে লন্ডন ডার্বিতে তারই আরেকটি উদাহরণ দেখা গেল। প্রথমার্ধে সংগ্রামরত ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ছিল একেবারেই ছন্নছাড়া চেলসি। বিরতিতে দর্শকদের অসন্তোষের মুখে পড়তে যাচ্ছিলেন কোচ লিয়াম রোজেনিয়র। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে এমন এক নাটকীয় জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা, যার শেষটা ওয়েস্ট হ্যামের জন্য রয়ে যায় হতাশা আর ক্ষোভের গল্প হয়ে।

ম্যাচের নির্ণায়ক মুহূর্ত আসে যোগ করা সময়ের ৯২ মিনিটে। জোয়াও পেদ্রোর কাটব্যাক থেকে দৌড়ে এসে নিখুঁত ফিনিশে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। তাতেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চেলসি। এই গোল পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলি হিসেবে নামা জোয়াও পেদ্রোই ছিলেন ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ঘণ্টা পার হওয়ার ঠিক আগে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান তিনি। পরে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিয়ে পেছনে বল বাড়িয়ে দেন এনজোর দিকে, যিনি দেরিতে উঠে এসে ম্যাচ জেতানোর দক্ষতায় ক্রমেই ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের স্মৃতি জাগাচ্ছেন।

অথচ প্রথমার্ধ ছিল পুরোপুরি ওয়েস্ট হ্যামের দখলে। জ্যারড বোয়েন ও ক্রিসেনসিও সামারভিল্লের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অতিথিরা। সংগঠিত ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে চেলসিকে রীতিমতো চাপে রাখে নুনো এস্পিরিতো সান্তোর দল। মনে হচ্ছিল, তাদের পুনরুত্থান আরও এক ধাপ এগোবে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সেই ছন্দ আর ধরে রাখতে পারেনি ওয়েস্ট হ্যাম।

দ্বিতীয়ার্ধে উত্তেজনা চরমে ওঠে। একপর্যায়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে গণহাতাহাতি বাধে। এই ঘটনায় ওয়েস্ট হ্যামের ডিফেন্ডার জঁ-ক্লেয়ার তোদিবো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। জোয়াও পেদ্রোকে গলা চেপে ধরার অপরাধে তার তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও অপেক্ষা করছে। যদিও একই ঘটনায় কনস্টানটিনোস মাভ্রোপানোস ও আদামা ত্রাওরে শাস্তি এড়ানোয় বিতর্ক রয়ে গেছে।

ম্যাচ শেষে হতাশা গোপন করতে পারেননি ওয়েস্ট হ্যাম কোচ নুনো। দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণভাগের দুর্বলতার সমালোচনার পাশাপাশি তার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে স্ট্রাইকার পাবলোকে তুলে ডিফেন্ডার ম্যাক্স কিলম্যানকে নামানো সিদ্ধান্তটি বিস্ময়কর ছিল। এর মাত্র তিন মিনিট পরই সমতায় ফেরে চেলসি। পেদ্রো নেতোর ক্রসে লিয়াম ডেলাপের হেড পোস্টে লেগে ফিরলে মার্ক কুকুরেয়া হেডে গোল করে ম্যাচে সমতা আনেন।

লিয়াম রোজেনিয়র ভাগ্যবান নাকি কৌশলগতভাবে চৌকস—এই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। এনজো মারেস্কার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর সাত ম্যাচে ছয়টি জয় পেলেও বেশিরভাগই এসেছে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে। নাপোলির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের মতো এখানেও বিরতিতে আনা তিন পরিবর্তন—বেনোয়া বাদিয়াশিল, আলেহান্দ্রো গারনাচো ও জোরেল হাতোর বদলে জোয়াও পেদ্রো, মার্ক কুকুরেয়া ও ওয়েসলি ফোফানা—ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এই জয়ে চেলসি আবারও প্রমাণ করল, খারাপ শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ফেরার সামর্থ্য তাদের আছে। অন্যদিকে, আগস্টের পর এখনো কোনো ক্লিনশিট না পাওয়া ওয়েস্ট হ্যামের জন্য এই হার ছিল ভীষণ বেদনাদায়ক। ২৪ ম্যাচ শেষে তারা অবনমন অঞ্চলে রয়ে গেছে, নটিংহ্যাম ফরেস্টের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪