কক্সবাজার প্রতিনিধি: সম্প্রতি জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক মাধ্যম এক্স একাউন্টে করা ‘কর্মজীবী নারীরা প্রস্টিটিউট’-এমন একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। যা নিয়ে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন তিনি। যদিও ডা. শফিকুর দাবি করেছেন তার এক্স একাউন্টটি ‘হ্যাক’ হয়েছিলো। তা নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা চলমান। এরমধ্যেই ‘ক্ষমতায় গেলে নারীদের মাথায় তুলে রাখা’র কথা বললেন আমির।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার পৌর শহরের বাহারছড়ায় মুক্তিযোদ্ধা (গোলচক্কর) মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় এমন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, ‘নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলায় গোপনে আমার পেছনে লাগা হয়েছে। পেছনের লোকেরা পেছনে পড়ে থাকবে, আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীদের মাথার ওপর তুলে মর্যাদা দিয়ে রাখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সবখানেই ইনসাফ কায়েম করা হবে। ন্যায় প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের মূল কাজ। সবকিছু ক্ষমা করা হলেও জুলাই হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারির সভাপতিত্বে জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন বাংলাদেশ পাবে দেশবাসী। আমরা সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত ফ্রি পড়ালেখার সুব্যবস্থা করা হবে। ইনসাফের মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের মূল কাজ।’
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ বা ২০২৪ এর নির্বাচন নয়। এ নির্বাচন ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন। জুলাই যোদ্ধাদের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন।
হেভিওয়েট ১২ তারিখ মাপা হয়ে যাবে উল্লেখ করে ডা. শফিক বলেন, ‘কক্সবাজারের অনেক আসনে নাকি হেভিওয়েট প্রার্থী আছে। তারা আমাদের প্রার্থীকে ভয় দেখাচ্ছে। আমাদের দাঁড়িপাল্লায় রায় দিয়ে তাদের ওয়েট মাপবে জনগণ।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের দাবি ছিল কাজ, বেকার ভাতা নয়। শিক্ষিত যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে বলবো, এবার এগিয়ে যাও। কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করো তুমিই বাংলাদেশ।’
কক্সবাজার কেন সিঙ্গাপুর ও সাংহাই হতে পারলো না—এমন প্রশ্ন রেখে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কক্সবাজারের চারটি আসন ১১ দলকে তুলে দিলে নুরের মেলায় একটি সুশৃঙ্খল পর্যটন জেলা উপহার দেওয়া হবে।’
নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌর শহরের বাহারছড়ায় মুক্তিযোদ্ধা (গোলচত্বর) মাঠে সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। সকালে মহেশখালীর জনসভা শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে কক্সবাজারের জনসভায় আসেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
এর আগে, সকাল ১০টায় শুরু হয় সমাবেশে কার্যক্রম। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার কুতুবদিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ, উখিয়া, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও কক্সবাজার সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা দলে দলে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। মাঠে দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক আল আমিন মো. সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সকাল থেকে জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতা, ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতা এবং জুলাই যোদ্ধাদের বক্তব্যের পর বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী ও শহর জামায়াতের আমির জেলা মজলিসের শুরা সদস্য আবদুল্লাহ আল ফারুক ও কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব