স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে নয়, তার বাইরে গিয়েও ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব, এমন মত প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক বাস্তবতায় প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের কাজ করা প্রয়োজন; তবে ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।
সোমবার(২ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইক-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, নির্বাচন, সংস্কার কর্মসূচি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে কার্যত ভোটাধিকার খর্ব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী একটি পুরো প্রজন্ম কখনো সত্যিকারের ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগে মানুষের আগ্রহ এবার প্রবল হবে বলে তিনি মনে করেন।
তার ভাষায়, বড় ধরনের কোনো অস্থিরতা বা গুরুতর বাধা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে বলে তিনি আশঙ্কা করেন না। নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে এবং সরকারও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আন্তরিক এমন মূল্যায়ন দেন বিএনপি মহাসচিব।
নির্বাচনে জয়ী হলে বিএনপির ঘোষিত ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা বিএনপির পাশে ছিল, তাদের অংশগ্রহণেই ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার গঠন হবে। তবে জামায়াতে ইসলামীকে সেই জাতীয় সরকারের অংশ হিসেবে তিনি দেখছেন না বলে স্পষ্ট করেন।
চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর ছাত্রদের গড়া দল এনসিপির সঙ্গে বিএনপির জোট না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় জোট সম্ভব হয়নি। এনসিপি বাস্তবতার তুলনায় বেশি আসন দাবি করেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নির্বাচন কতটা প্রভাবিত হবে এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ নতুন নেতৃত্ব ও নতুন ভাবমূর্তি নিয়ে ফিরে আসতে পারত, কিন্তু শেখ হাসিনা দলের ভেতরে বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে উঠতে দেননি। ফলে দলটির অনুপস্থিতি নির্বাচনে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই তিনি মনে করেন।
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নে ফখরুল বলেন, দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। এর মধ্যে পানি বণ্টন সমস্যা আন্তরিকভাবে সমাধান, সীমান্তে হত্যা বন্ধ এবং বাণিজ্যিক ইস্যুতে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সাম্প্রতিক ক্রিকেট–সংক্রান্ত উত্তেজনাকেও দুঃখজনক ও অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত না পাঠানোর বিষয়টি ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলবে,এ প্রশ্নে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একটি ফ্যাক্টর হলেও তা অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদে তিনি রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল। তার মতে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে এবং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে বর্তমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতেই হবে এটাই বাংলাদেশের অবস্থান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি