| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিতে কূটনীতিকদের নির্দেশ ইরানের প্রেসিডেন্টের

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৩, ২০২৬ ইং | ১৪:০৩:১৭:অপরাহ্ন  |  ৬২৮২০৫ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিতে কূটনীতিকদের নির্দেশ ইরানের প্রেসিডেন্টের
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিতে কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, ‘ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক আলোচনা’ এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে যেখানে কোনো হুমকি বা অযৌক্তিক প্রত্যাশা থাকবে না,যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মর্যাদা, বিচক্ষণতা ও বাস্তবতার নীতিতে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইরান।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে। সপ্তাহান্ত থেকে সোমবার পর্যন্ত উভয় পক্ষের মন্তব্য ও প্রতিবেদনগুলোতে ইঙ্গিত মিলেছে, নেপথ্য কূটনৈতিক যোগাযোগে অগ্রগতি হচ্ছে।

ইরান এর আগে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কাতার, তুরস্ক, মিসর ও ওমানের প্রস্তাবিত একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগ তারা পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই আলোচনার একটি কাঠামো চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার(৩ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সম্ভাব্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অংশ নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরান বা ওয়াশিংটন কোনো নিশ্চিতকরণ দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার সামরিক হুমকি দিয়েছেন। জানুয়ারিতে তিনি ইরানে চলমান বিক্ষোভে সহায়তার অঙ্গীকার করে অঞ্চলে নৌবহর পাঠান। তবে পরে অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রাম্প তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এই আলোচনা প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।

নেপথ্য কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে রোববার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কথা বলছে। পরদিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি নিশ্চিত করেন, পরোক্ষ আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ‘অঞ্চলভুক্ত দেশগুলো বার্তা আদান-প্রদানে মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখছে। আমরা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের বিস্তারিত বিষয় পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করছি এবং আশা করছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে।’

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এদিকে ফার্স বার্তা সংস্থা এক অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু ইস্যুতে আলোচনায় বসবে’, তবে আলোচনার সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি। এই খবর সরকারি দৈনিক ইরান ও শার্গ পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছে।

ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে স্টিভ উইটকফের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, উইটকফ মঙ্গলবার ইসরায়েলে পৌঁছাবেন এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

পরমাণু চুক্তির দাবি জোরালো

নির্ধারিত আলোচনার খবরে এমন সময় সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধবিমান ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে, যা প্রয়োজনে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে সক্ষম।

জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভের পর ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে মুদ্রার অবমূল্যায়ন থেকে শুরু হওয়া ওই বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিস্থিতি সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জে রূপ নেয়।

তবে সময়ের সঙ্গে ট্রাম্পের অবস্থান সামরিক হুমকি থেকে পরমাণু চুক্তির দাবির দিকে মোড় নেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও তেহরান বারবার বলছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বেসামরিক।

ইরান আলোচনায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলেও যুক্তরাষ্ট্র কিছু শর্ত আরোপ করেছে বলে জানা গেছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনায় বসতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে হবে এবং আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করতে হবে, এমন দাবি করেছেন ট্রাম্প।

অতীতে ইরান পরমাণু ইস্যুতে নমনীয়তা দেখালেও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্রদের প্রশ্নকে বরাবরই অলোচনার বাইরে রেখেছে। বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও ভবিষ্যৎ অস্থিরতা ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের তীব্র প্রয়োজন থাকলেও ইরান এই অবস্থান পরিবর্তন করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এর আগে জুন মাসে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও ইসরায়েলের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের পরমাণু স্থাপনায় সেই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।

রোববার ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণভাবে কথা বলছে’, তবে একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে যোগ করেন, ‘আমাদের খুব বড় ও শক্তিশালী জাহাজ ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে।’

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি রোববার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানে কোনো হামলা হলে তা ‘পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ’ ডেকে আনবে।

-আল জাজিরা ও সংবাদ সংস্থা

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪