সিনিয়র রিপোর্টার: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনীতিতে প্রতিপক্ষের সমালোচনা করার আগে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ইতিহাস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এখন নানা কথা বলছে, কিন্তু ১৯৭১ সালে তারা কোথায় ছিল সেই প্রশ্নের জবাব আগে দিতে হবে। ওই সময়ে জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়ে কাজ করেছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের ফারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং সরকারও নির্বাচনটি গুরুত্বের সঙ্গে আয়োজন করছে। তিনি বলেন, এবার যার ভোট সে-ই দেবে, যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিতে পারবে।
ভোটকে পবিত্র আমানত উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি কখনো কারও আমানতের সঙ্গে খেয়ানত করেননি এবং সততার সঙ্গে রাজনীতি করে আসছেন। তিনি দাবি করেন, রাজনীতি করে তিনি কোনো সম্পদ অর্জন করেননি, বরং সম্পদ বিক্রি করেই রাজনীতি করছেন এবং ভবিষ্যতেও সততার পথেই থাকবেন।
হিন্দু সনাতনী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে যেন কোনো ভয় না থাকে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকা পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান,সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন পেলে তিনি এই এলাকার জন্য কার্যকর উন্নয়নমূলক কাজ করতে চান।
এ সময় তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রথমেই ৫০ লাখ মায়ের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। কৃষকদের জন্য দেওয়া হবে ‘কৃষি কার্ড’, যার মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও সেচের সুবিধা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া নারীদের ঋণও মাফ করে দেওয়া হবে। দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি