সিনিয়র রিপোর্টার: আমজনতা দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া কোনো তথাকথিত ‘সুখবর’কে তিনি সুখবর হিসেবে দেখেন না। তার দাবি, ড. ইউনূসের দেওয়া প্রতিটি সুখবরের পেছনেই অন্ধকার ও ভিনদেশি স্বার্থ লুকিয়ে থাকে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ড. ইউনূস এক সময় রোহিঙ্গাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তারা ঈদ নিজ নিজ ঘরে গিয়ে উদ্যাপন করবে। কিন্তু ওই ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এটিকে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বাস্তবতা-বিবর্জিত বক্তব্য বলে আখ্যা দেন।
বন্দর ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দিলে জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। তিনি দাবি করেন, অস্ত্র ও প্রযুক্তি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ইরান, পাকিস্তান, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রযুক্তি শেয়ারিংয়ের পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতেই হবে। সেই সক্ষমতা বৃদ্ধির পথেই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাবলিশমেন্টের স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবে বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিদর্শনে আসা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ ভারতীয় ছিলেন দাবি করে তারেক রহমান বলেন, একদিকে ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বিদেশিদের উচ্চ মুনাফায় বন্দর ইজারা দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার কি ডিপি ওয়ার্ল্ড বা অন্য কোনো বিদেশি কর্তৃপক্ষকে ভারতীয় কর্মকর্তা নিয়োগে বাধা দিতে পারবে?
তিনি আরও দাবি করেন, কেবল বিদেশি কোম্পানির লাভ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বন্দরের সেবামূল্য ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তার প্রশ্ন, যদি সত্যিই দেশের স্বার্থে বন্দর দেওয়া হয়, তাহলে আগের রেটেই বিদেশিরা পরিচালনা করতে পারত না কেন?
আমদানি-রপ্তানিকারকদের পক্ষ থেকে কখনো বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি ওঠেনি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাহলে কার স্বার্থে এবং কার আগ্রহে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে সে প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে।
দেশীয় উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রধান শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সেবা ও উৎপাদন খাতকে অভ্যন্তরীণ উদ্যোগে শক্তিশালী করলেই প্রকৃত স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব। পানি, গ্যাস ও তেল সম্পদ বিদেশি নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রেখে সরকার ও জনগণের যৌথ মালিকানায় পরিচালনাই সার্বভৌমত্বের মৌলিক দর্শন।
এ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন,দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের কর্তৃত্ব কমিয়ে বিদেশি কোম্পানি শেভরনের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার তৎপরতা চলছে।
সবশেষে প্রশ্ন রেখে আমজনতা দলের সদস্যসচিব বলেন, নিজস্ব উৎপাদন ও সেবা খাতকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বাবলম্বী না করে একে একে বিদেশিদের হাতে তুলে দিলে, বাংলাদেশ কি কেবল বিদেশে গিয়ে শ্রম বিক্রি করা একটি জাতিতে পরিণত হবে?
রিপোর্টার্স২৪/এসসি