| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ধানের শীষের সমর্থকরাও আমাকে দেখতে রাস্তায় দাঁড়ান: নাহিদ ইসলাম

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৬, ২০২৬ ইং | ০০:৫৬:২৩:পূর্বাহ্ন  |  ৬৭৭৪২৮ বার পঠিত
ধানের শীষের সমর্থকরাও আমাকে দেখতে রাস্তায় দাঁড়ান: নাহিদ ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নির্বাচনি এলাকার মানুষের সাড়া, স্মৃতি ও প্রত্যাশার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, নির্বাচন তাঁর জন্য এক নতুন ও গভীর অভিজ্ঞতা। প্রতিদিন ভোরে বের হয়ে সারাদিন রোদ, ধুলো আর ভিড়ের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে মানুষের সঙ্গে কথা বলা, তাদের কথা শোনা, মসজিদে যাওয়া—সব মিলিয়ে দিন শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়েই বাড়ি ফেরেন তিনি। তবে এই দীর্ঘ দিনের সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তি হচ্ছে মানুষের দেওয়া ছোট ছোট উপহার। এসব উপহারের ভেতরেই থাকে দরদ আর মমতা। কেউ চকলেট দেয়, কেউ আতর, কেউ নিজ হাতে শাপলা কলি বানিয়ে দেয়। এক নারী নিজ হাতে চুড়ি বানিয়ে দিয়েছেন তাঁর স্ত্রীর জন্য। কেউ কেউ আবার জোর করেই হাতে বা পকেটে কিছু টাকা গুঁজে দেন। রাতে বাসায় ফিরে পকেট ঝাড়লে পাওয়া যায় টাকা আর নানা উপহার—যেগুলো তিনি ভালোবাসার নীরব দলিল বলে উল্লেখ করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রয়াত নেতা ওসমান হাদির প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, তার ভাগিদার তাঁরা নিজেরাও হয়ে উঠছেন। মানুষ তাঁদের নিজের সন্তানের মতো দেখে, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে। ওসমান হাদীর শূন্যতা মানুষের মনে আজও পূরণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নাহিদ লেখেন, মানুষ এখনো সেই দিনগুলো ভোলেনি। বাড্ডা–রামপুরা এলাকায় আন্দোলন কীভাবে সংগঠিত হয়েছিল, ব্র্যাক ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির সামনে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ—এসব স্মৃতি মানুষ তাঁকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। রামপুরা ব্রিজ দখল করে রাখা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দোকানদার, চা-ওয়ালা ও হকারদের যুক্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অনেক মসজিদ ও মাদরাসার দেয়ালে গুলির দাগ দেখিয়ে স্থানীয়রা তাঁকে সেই দিনের ভয়াবহতার কথা বলেছেন বলেও জানান নাহিদ।

পোস্টে আরও উঠে আসে ব্যক্তিগত স্মৃতি। আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই গুলশান–বাড্ডা থেকে পায়ে হেঁটে বনশ্রী যাওয়ার পথে গোলাগুলির মুখে পড়া, নিজের বাসার সামনে একজন শহীদ হওয়া এবং সেই রাতেই গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। নাহিদ বলেন, বাড্ডা, রামপুরা ও বনশ্রী—এই এলাকাতেই তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও জীবনের শেকড়। তবে নির্বাচনি প্রচারণার মাধ্যমে তিনি এলাকাকে নতুন করে চিনছেন, মানুষের সঙ্গে আরও গভীর সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।

তিনি লেখেন, কখনো কখনো দেখেন ধানের শীষের অনেক সমর্থকরাও নীরবে রাস্তায় বা বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে থাকেন—শুধু তাঁকে এক নজর দেখার জন্য। প্রতিদিন মানুষের জীবনের গল্প শোনেন তিনি—কেউ চাকরি চান, কেউ চিকিৎসার জন্য সাহায্য চান, কেউ এলাকার রাস্তা সংস্কার, গ্যাস সংকট, স্কুল, খেলার মাঠ বা ক্লিনিকের অভাবের কথা বলেন। জলাবদ্ধতা, তীব্র যানজট, নিরাপত্তাহীনতা ও আইনশৃঙ্খলার দুরবস্থার কথাও উঠে আসে মানুষের মুখে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, মানুষ অভিযোগ করলেও এখনো কথা বলে, প্রত্যাশা রাখে, নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে। নির্বাচনের ফল কী হবে, তা তিনি জানেন না। তবে তাঁর মতে, রাজনীতি হার-জিতের ঊর্ধ্বে মানুষের এই ভালোবাসা এবং নিজের এলাকাকে নতুন করে চেনাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪