| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মার্চের মাঝামাঝি স্বাক্ষরিত হবে চুক্তি

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কি লোকসানের মুখে পড়তে পারেন ভারতীয় কৃষকরা ?

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৯, ২০২৬ ইং | ২১:২৭:৫০:অপরাহ্ন  |  ৫৮৭১১১ বার পঠিত
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে  কি লোকসানের মুখে পড়তে পারেন ভারতীয় কৃষকরা ?
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক নয়া মোড় ঘুরিয়ে আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এক মেগা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে চলেছে নয়াদিল্লি। 

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন যে, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে আইনি নথিপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা চূড়ান্ত রূপ পাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া এই সমঝোতার অধীনে ভারত-মার্কিন শিল্প ও কৃষিপণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমিয়ে শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিশন গ্রিয়ার আমেরিকার জন্য এক 'বিশাল জয়' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ফল, সবজি, ওয়াইন, কেমিক্যাল এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের মতো প্রায় ৯৮-৯৯ শতাংশ মার্কিন পণ্য এখন বিনাশুল্কে ভারতীয় বাজারে প্রবেশের ছাড়পত্র পাবে। বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর বিদ্যমান ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনবে। 

যদিও গ্রিয়ার স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকার বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর এই ১৮ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা হচ্ছে, যা ভারতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ সুবিধার নয়। 

মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল আরও জানিয়েছেন যে, যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি হোয়াইট হাউসের একজিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে কার্যকর হবে। এই চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধের বিষয়ে ভারতের প্রতিশ্রুতি। 

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়া থেকে আর তেল না কেনার বিষয়ে সহমত হয়েছেন এবং পরিবর্তে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি আমদানির কথা জানিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রবল চাপের মুখেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও ভারত আগামী পাঁচ বছরে আমেরিকার অর্থনীতিতে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও পণ্য ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে বিমান, প্রযুক্তি এবং জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত জ্বালানি সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং মার্কিন পণ্যের জন্য ভারতের বাজার সম্পূর্ণ খুলে দিয়ে নয়াদিল্লি এক বড় ধরনের বাণিজ্যিক বাজি ধরল। মার্কিন কারিগরি মানদণ্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রায় সব পণ্যে শূন্য শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে দেশীয় কৃষক ও ক্ষুদ্র শিল্পপতিরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর বৈঠকেও এই চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা ভারতের দীর্ঘদিনের বিদেশনীতি ও বাণিজ্যিক স্বকীয়তাকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪