রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কাঁচা খেজুরের রস পান করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনার পর এই সতর্কবার্তা দেয় সংস্থাটি। তবে ডব্লিউএইচও বলছে, বর্তমানে এ ভাইরাসের বৈশ্বিক সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ডব্লিউএইচও জানায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আইএইচআর এনএফপি (ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট) রাজশাহী বিভাগে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর তথ্য সংস্থাটিকে অবহিত করে।
নওগাঁর এক নারীর মৃত্যু
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, নিহত ব্যক্তি নওগাঁ জেলার ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন নারী। গত ২১ জানুয়ারি থেকে তাঁর জ্বর ও স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়। পরে ২৮ জানুয়ারি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রক্তের নমুনা পরীক্ষার পর ২৯ জানুয়ারি নিপা ভাইরাস শনাক্ত হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ৩ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
ডব্লিউএইচও জানায়, ওই নারীর কোনো ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না। তবে সংক্রমণের আগে তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন, যা বাংলাদেশে নিপা সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে পরিচিত।
নতুন সংক্রমণ নেই
রোগী শনাক্তের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও নতুন কোনো নিপা রোগী পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আঞ্চলিক উদ্বেগ, তবে বৈশ্বিক ঝুঁকি কম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি দুইজন নিপা রোগী শনাক্ত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশের এই মৃত্যুর খবর এলো। এতে প্রতিবেশী দেশসহ চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে উদ্বেগ তৈরি হলেও ডব্লিউএইচও স্পষ্ট করেছে- বর্তমান তথ্য অনুযায়ী কোনো দেশেই ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই।
সংস্থাটির মতে, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি খুবই সামান্য।
বাংলাদেশে নিপার ইতিহাস
২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৩৪৮ জন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সংক্রমণের হার বেশি থাকে। আক্রান্তদের অধিকাংশই সংক্রমণের আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন।
নিপা ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা না থাকায় এতে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি- প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ।
সচেতনতার আহ্বান ডব্লিউএইচওর
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান নিপা ভাইরাসকে একটি ‘বিরল কিন্তু গুরুতর রোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও পরীক্ষা জোরদার করেছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে ডব্লিউএইচওর পরামর্শ হচ্ছে- কাঁচা খেজুরের রস পান থেকে বিরত থাকুন, জ্বর ও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে