| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এপস্টিন ফাইলসে তথ্য গোপনের অভিযোগ, বিচার বিভাগ ‘ধামাচাপা’ দিচ্ছে: রাসকিন

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১০, ২০২৬ ইং | ১৮:০৫:০১:অপরাহ্ন  |  ৫৭০২৬৪ বার পঠিত
এপস্টিন ফাইলসে তথ্য গোপনের অভিযোগ, বিচার বিভাগ ‘ধামাচাপা’ দিচ্ছে: রাসকিন
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন অভিযোগ করেছেন, কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে ‘রহস্যজনক ও অপ্রয়োজনীয় তথ্য গোপন (রিড্যাকশন)’ করে বিচার বিভাগ প্রকৃত অপরাধীদের নাম আড়াল করছে। একই সঙ্গে এসব নথিতে এপস্টিনের ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়েছে, যা গুরুতর উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বিচার বিভাগের একটি সরকারি স্থাপনায় সংরক্ষিত অরিড্যাক্টেড (অগোপন) এপস্টিন ফাইল পর্যালোচনা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রাসকিন। কংগ্রেসে পাস হওয়া এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এসব নথি আইনপ্রণেতাদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

আইন অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের পরিচয় সুরক্ষার মতো সীমিত ক্ষেত্রে নথি গোপন করার সুযোগ থাকলেও প্রকাশিত বহু নথিতে ব্যক্তিগত তথ্য ও পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাসকিন বলেন, আমি সেখানে গিয়ে দেখেছি, অসংখ্য জায়গায় একেবারেই অপ্রয়োজনীয়ভাবে তথ্য গোপন করা হয়েছে। আবার একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হয়নি,যা আমাদের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ কার্যত ‘তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার মোডে’ রয়েছে এবং তারা আইন লঙ্ঘন করেছে।

রাসকিন বলেন, ভুক্তভোগীদের নাম প্রকাশ করা হয় চরম অদক্ষতা ও অবহেলার ফল, অথবা অনেক ভুক্তভোগীর মতে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য ভুক্তভোগীদের ভয় দেখানোর কৌশল, যাতে তারা সামনে আসতে নিরুৎসাহিত হন।

এ পর্যন্ত এপস্টিন সংক্রান্ত প্রায় ৩৫ লাখ নথি প্রকাশ করেছে বিচার বিভাগ। আরও প্রায় ৩০ লাখ নথি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান রাসকিন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের চারটি কম্পিউটারে আইনপ্রণেতাদের এসব নথি দেখার সুযোগ দেওয়া হলেও, সেখানে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা সহকারী নেওয়ার অনুমতি নেই। ফলে তিনি মাত্র ৩০ থেকে ৪০টি নথি পর্যালোচনা করতে পেরেছেন।

রাসকিন দাবি করেন, অনেক পরিচিত ব্যক্তির নাম অস্পষ্ট ও অযৌক্তিক কারণে গোপন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেটের প্রতিষ্ঠাতা লেস ওয়েক্সনার, যাঁর সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক আগে থেকেই প্রকাশ্য।

তিনি আরও জানান, একটি অগোপন ইমেইলে দেখা যায়,২০০৯ সালের দিকে এপস্টিনের আইনজীবীদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীদের কথোপকথনের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। ওই ইমেইলে ট্রাম্পের উদ্ধৃতি রয়েছে যে, এপস্টিন কখনো মার-এ-লাগো ক্লাবের সদস্য ছিলেন না, তবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং তাকে কখনো বের করে দেওয়া হয়নি। এই বক্তব্য ট্রাম্পের আগের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আগামী বুধবার প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডির। রাসকিন জানান, তিনি সেখানে রিড্যাকশন প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলবেন।

তিনি বলেন, আমরা বিচার বিভাগকে এই ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া পরিষ্কার করার অঙ্গীকার চাইব এবং বাকি লক্ষ লক্ষ নথি দ্রুত প্রকাশের দাবি জানাব।

এদিকে একই দিনে, শিশু যৌন পাচারের দায়ে দণ্ডিত এপস্টিনের সহযোগী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল কংগ্রেসের ওভারসাইট কমিটির জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান।

যুক্তরাজ্যে এপস্টিনের সঙ্গে সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসন–এর সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাসকিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিষয়টি তেমন আলোড়ন না তুললেও এপস্টিন নথিতে ট্রাম্পের নাম বারবার উঠে এসেছে।

রাসকিন মন্তব্য করেন, ব্রিটেনে এটি একটি বিশাল রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে সমাজ ও রাজনীতির অবক্ষয়ের কারণে মানুষ বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, তিনি যেসব নথি দেখেছেন, তাতে মাত্র ৯ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়েও আলোচনার উল্লেখ রয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।আমি আশা করি, গোটা দেশ এই সংকটের গভীরতা উপলব্ধি করবে, বলেন রাসকিন।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪