স্টাফ রিপোর্টার: সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর ভিন্নমতাবলম্বী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা এখনো জীবিত এবং জনগণের ম্যান্ডেট কোনোভাবেই নির্যাতনের লাইসেন্স হতে পারে না।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোটের সমর্থক, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপির মতের সঙ্গে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান রাখার কারণে যেসব নিরীহ নাগরিক ও ভোটার সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি সংহতি জানানো হচ্ছে।
জুলাই বিপ্লবের চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সদ্য গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করা জাতির বুকে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও প্রতিহিংসার রাজনীতির স্থান নেই। আর কোনো স্বৈরাচার নয়,না রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে, না কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়ায় থেকে;এমন বার্তাও তুলে ধরা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সহিংসতার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। দ্রুত ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচিত এমপি, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ছবি-ভিডিওসহ সব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দিতে এবং প্রয়োজনে গণমাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে।
আসন্ন সরকারের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় বলা হয়, জনগণের ম্যান্ডেট একটি শর্তযুক্ত আমানত,এর প্রধান শর্ত হলো আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দল ও কর্মীদের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে; তবে এ অঙ্গীকারকে দুর্বলতা মনে না করারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি