জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় হাফিজুর রহমান (৪৫) নামের জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন আমিরের বড় ভাই নিহত হয়েছেন। উভয়পক্ষের আরও ৫জন আহত হয়েছেন। এঘটনায় পুলিশ রাতেই বিএনপির দু'জনকে আটক করেছেন।
রোববার (১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক আইল্যান্ডে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে বক্তারা নিহত হাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপি কর্মীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন,জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, জেলা মজলিশুল মুফাসসিরিনের সভাপতি হাফিজুর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবু বক্কর, জীবননগর পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি আরিফ জোয়ার্দার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাফিজুর হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলে জীবননগরে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
বিক্ষোভ চলাকালে নেতাকর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে প্রায় ৩০ মিনিট শহরের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এদিকে, সংঘর্ষে নিহত হাফিজুর রহমানের জানাজা রোববার বিকেল ৩টায় জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামে কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকার কামিল মাদরাসা গেটের সামনে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে মারা যান হাফিজুর রহমান।
এ ঘটনায় নিহত হলেন, উপজেলার সুটিয়া গ্রামের মৃত ওহাবের ছেলে হাফিজুর রহমান (৪৫) তিনি জামায়াতে ইসলামীর বাঁকা ইউনিয়ন আমিরের বড় ভাই। আহতরা হলেন, মফিজুল রহমান (৪২) ও মাহফুজ হোসেন (২৫), খাইরুল ইসলাম (৫৫) এবং হাসাদাহ ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান (৩৬) ও তাঁর পিতা জসিম উদ্দিন (৬০)।
এঘটনার পর পুলিশ রাতেই হাসাদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম(৫৫) ও জসীম উদ্দীন(৬০) নামের দুজনকে আটক করেছে।
জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান জামাত সমর্থকদের মারার উদ্দেশ্যে হাসুয়া নিয়ে সুটিয়া গ্রামে যায়। সুটিয়া গ্রামের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে মেহেদী হাসানকে মারধর করে সুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আটকে রাখেন,পরে পুলিশ হাতে সোপর্দ করে, থানা পুলিশ মেহেদী হাসানকে মুচলিকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।
এই ঘটনার জের ধরে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম হাসাদহ বাজারে আসলে মেহেদী হাসান, জসিম উদ্দিন, ইমরান ও বাপ্পা মিলে তাকে কিল ঘুষি মেরে আহত করে ছেড়ে দেয়।
পরবর্তীতে এই ঘটনার আহত খায়রুল ইসলাম জামায়াত ইসলামীর দলীয় লোকজন নিয়ে ইফতারি পর মেহেদী হাসানের বাড়িতে এসে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপি সমর্থকরা জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এসময় ৬জন আহত হলে তাদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশংকাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের যশোর রেফার করে। যশোর নেওয়ার পর হাফিজুর রহমানের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে মারা যান হাফিজুর রহমান।
মফিজুর রহমান ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন, তার অবস্থাও সংকটাপন্ন।
খবর পেয়ে ওইরাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন চুয়াডাঙ্গার সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর ও জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ।
বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এ ঘটনায় এখনো কোন পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহ দু'জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু