আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাক সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল থেকে হাজার হাজার কুর্দি যোদ্ধা ইরানের অভ্যন্তরে স্থল অভিযান শুরু করেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তারা। বুধবার (৪ মার্চ) তারা সংবাদমাধ্যম-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে নতুন একটি ফ্রন্ট খুলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, ইরান-ইরাক সীমান্তে সক্রিয় কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। এসব গোষ্ঠীকে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করা গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের অধিকাংশ ঘাঁটি ইরাকের কুর্দিস্তান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত, সেখান থেকেই তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
কুর্দি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পশ্চিম ইরানে স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি জোরদার করা হয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা, তাদের অবস্থান দুর্বল করা এবং বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা কাঠামোকে ছত্রভঙ্গ করা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় ইরানের নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই অভিযান দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা ইরানের জন্য নিরাপত্তা ও সামরিক দিক থেকে বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ইতোমধ্যে তেহরান বহুমুখী চাপে রয়েছে—একদিকে আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি। এর সঙ্গে নতুন করে কুর্দি ফ্রন্ট সক্রিয় হলে সংঘাত আরও জটিল রূপ নিতে পারে।
তবে ইরান সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। অতীতে তেহরান সীমান্তবর্তী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তাদের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহলও নজর রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি