এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক: দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান আবারও আলোচনায় এসেছেন তার ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে। সম্প্রতি তামিল সুপারস্টার বিজয় থালাপতির সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। একটি অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তৃষা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে কৌশলে এড়িয়ে যান। তবে তার এই নীরবতাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি জানা যায়, বিজয়ের স্ত্রী সংগীতা সোনালিংগাম স্বামীর বিরুদ্ধে আইনি বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। পারিবারিক আদালতে এ সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বিজয় ও তৃষাকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়। অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতির কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়। যদিও এ নিয়ে দুই তারকার কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
তৃষা কৃষ্ণন দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণী চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় মুখ। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তিনি একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন। একসময় তেলুগু তারকা রানা দাগুবাতির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার কারণে ভক্তদের মধ্যেও সেই সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তবে কয়েক বছর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার পর শেষ পর্যন্ত তারা আলাদা হয়ে যান। বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে কেউই প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
পরবর্তীতে চেন্নাইয়ের ব্যবসায়ী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক বরুন মানিয়ানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তৃষা। ২০১৫ সালে তাদের বাগদানও সম্পন্ন হয়। সেই সময় দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাদের বিয়ে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। কিন্তু বাগদানের মাত্র ছয় মাসের মাথায় সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। তৃষা কখনো প্রকাশ্যে বাগদান ভাঙার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাননি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তখন গুঞ্জন ছড়ায় যে, বরুণ মানিয়ানের পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তির কারণেই বিয়েটি আর এগোয়নি। বিশেষ করে বরুণের বাবা নাকি চাইতেন তার পুত্রবধূ যেন ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে হন, যা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে শোনা যায়।
বাগদানের সময় তৃষা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে লিখেছিলেন, বরুণের সঙ্গে আমার বাগদান হচ্ছে। তবে কেউ যেন মনে না করে যে আমি অভিনয় ছেড়ে দিচ্ছি। আমি সারাজীবন অভিনয়টাই করব। এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তনের মধ্যেও অভিনয়ই তার প্রথম অগ্রাধিকার।
বাগদান ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তৃষা নিজেকে কাজের মধ্যেই ব্যস্ত রেখেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করে বিয়ে করে অসুখী দাম্পত্যজীবনে থাকার কোনো ইচ্ছা তার নেই। বরং তিনি এমন একজন মানুষকে জীবনে চান, যার সঙ্গে সম্পর্কটি হবে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে। ভালোবাসার সম্পর্কেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী।
এদিকে সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে থালাপতি বিজয়কে ঘিরে ওঠা গুঞ্জন প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তৃষা সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে তার এই নীরবতা ভক্তদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ধারণা করছেন, তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্কের চেয়েও বেশি কিছু থাকতে পারে। আবার অনেকে এটিকে নিছক গুঞ্জন বলেও উড়িয়ে দিচ্ছেন।
দক্ষিণী চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তৃষা বহু জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং এখনও তিনি সমানভাবে ব্যস্ত বিভিন্ন নতুন প্রজেক্ট নিয়ে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যতই আলোচনা থাকুক, অভিনয় ক্যারিয়ারেই তিনি মনোযোগী—এমনটাই মনে করছেন তার ঘনিষ্ঠরা।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি