এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক: বলিউড সুপারস্টার সালমান খান দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। বড় পর্দায় তার শক্তিশালী উপস্থিতি ও স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় দর্শকদের বারবার মুগ্ধ করেছে। তবে তার কিছু স্বাভাবিক ও আবেগঘন অভিনয় মুহূর্ত দর্শকদের বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে। সম্প্রতি এমনই একটি স্মৃতি তুলে ধরেছেন নির্মাতা ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান।
ইউটিউবার রনবীর আল্লাবাদিয়া-র সঙ্গে এক খোলামেলা আলোচনায় ফারাহ খান বলেন, ‘দাবাং’ ইমেজের বাইরে সালমান আসলে ভীষণ সংবেদনশীল মানুষ। তার ভাষায়, সালমান নিজের কষ্ট ভেতরে রাখে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে মোমের মতো নরম।
২০০৬ সালের ছবি জানেমান-এর একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের কথা স্মরণ করে ফারাহ বলেন, নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ-এ একটি আবেগঘন দৃশ্য ধারণের সময় সালমান একেবারেই স্বাভাবিকভাবে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন।
ফারাহ বলেন, ব্রুকলিন ব্রিজে যখন সে কেঁদেছিল, তখন সত্যিই কেঁদেছিল। ওই গানে কোনো গ্লিসারিন ব্যবহার করা হয়নি। সে হঠাৎ করেই কেঁদে ফেলেছিল। মুহূর্তটা ছিল একেবারে জাদুকরী। তাকে কাঁদতে দেখে আমিও কেঁদে ফেলেছিলাম।
আলাপচারিতায় সালমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন ফারাহ খান। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই সালমানকে চেনেন তিনি। এমনকি ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ছবির স্ক্রিন টেস্টের সময় সালমানকে নাচ শেখাতে তিনি সঙ্গে গিয়েছিলেন।
বর্তমানের সালমান আর ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা সালমানের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফারাহ বলেন, অভিনেতার রসবোধ আলাদা ধরনের। তার ড্রাই সেন্স অব হিউমার আছে। সেটা যদি কেউ বুঝতে পারে, তবে সে খুবই মজার মানুষ।
নিজেদের জীবনযাত্রার পার্থক্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ফারাহ বলেন, তিনি মাঝেমধ্যে সালমানের বাসায় গেলেও দুজনের আড্ডার ধরন আলাদা। আমি রাত সাড়ে ৯টা বা ১০টার মধ্যে ঘুমাতে চাই। আর সে রাত ২টার পর আড্ডা দিতে পছন্দ করে।
ফারাহ খান ও সালমান খান একসঙ্গে একাধিক জনপ্রিয় সিনেমা ও গানে কাজ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মুঝছে সাদি কারোগী (২০০৪), দাবাং (২০১০) ও সুলতান (২০১৬)। সম্প্রতি ২০২৫ সালের ছবি সিকান্দার-এ সালমানের জন্য একটি নাচের দৃশ্যের কোরিওগ্রাফিও করেছেন তিনি।