স্পোর্টস ডেস্ক: দেশে যখন ঈদের উৎসবমুখর পরিবেশ, তখন মালদ্বীপের মালেতে কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। আজ থেকেই পর্দা উঠেছে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের। আর টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আগামীকাল মাঠে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।
এই ম্যাচে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রতিপক্ষ নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকা।
পাকিস্তান দলের সাম্প্রতিক কোনো ম্যাচের ভিডিও বা অনুশীলনের ফুটেজ না থাকায় তাদের শক্তি বা কৌশল সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই বাংলাদেশের কোচিং স্টাফদের। তবে এ নিয়ে খুব একটা বিচলিত নন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু। নিজেদের কৌশলেই ভরসা রাখছেন তিনি। মিশু জানান, 'পাকিস্তান সম্পর্কে আমরা কোনো ধারণা পাইনি।
তাই প্রতিপক্ষ নয়, আমরা পুরোপুরি নিজেদের গেমপ্ল্যান নিয়েই পরিকল্পনা সাজিয়েছি।'
প্রস্তুতি পর্বে মাঠ নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ ছিল বাংলাদেশ দলের। প্রথম দুই দিন কৃত্রিম টার্ফে অনুশীলন করতে হলেও, ম্যাচের আগের দিন আজই প্রথম আসল ঘাসের মাঠে ঘাম ঝরিয়েছে দলটি। তবে মাঠের এই সীমাবদ্ধতা খেলোয়াড়দের মনোবলে কোনো চিড় ধরাতে পারেনি বলে নিশ্চিত করেছেন সহকারী কোচ।
তার মতে, ছেলেরা মাঠে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মোরশেদ আলীর কণ্ঠেও ঝরেছে আত্মবিশ্বাস। ইনজুরি মুক্ত স্কোয়াড নিয়ে পুরো তিন পয়েন্টের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। মোরশেদ বলেন, ‘ম্যাচটা যেহেতু পাকিস্তানের বিপক্ষে, তাই সবার ভেতরেই বাড়তি একটা জেদ কাজ করছে। আমাদের দলে কোনো চোট সমস্যা নেই। প্রথম ম্যাচটা আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে চাই।’
এবারের অনূর্ধ্ব-২০ দল নিয়ে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বাড়তি উন্মাদনা কাজ করছে। আর এর অন্যতম কারণ দলে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দুই জমজ ফুটবলার রোনান সুলিভান এবং ডেকলান সুলিভানের অন্তর্ভুক্তি। তাদের উপস্থিতিতে দলের শক্তি ভিন্ন মাত্রা পাবে বলেই প্রত্যাশা সবার।
মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৫টায় পাকিস্তানের বিপক্ষে মহারণে নামবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। এরপর ২৮ মার্চ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালের টিকিট পাবে। আর শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ এপ্রিল।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব