| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিল পরিশোধ করতে না পারায় বাচ্চা বিক্রির চাপ চিকিৎসকের

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ৩১, ২০২৬ ইং | ২১:২৭:২১:অপরাহ্ন  |  ১১০৪ বার পঠিত
বিল পরিশোধ করতে না পারায় বাচ্চা বিক্রির চাপ চিকিৎসকের

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের পর ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক বিক্রি করার জন্য স্বজনদের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলার ডোমারের “মমতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার” নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ক্লিনিকটিতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ডোমার উপজেলা প্রশাসন।

ভুক্তভোগী ডোমার উপজেলার দক্ষিণ গোমনাতি এলাকার কৃষক রাকিবুল হাসানের স্ত্রী হাবিবা সুলতানা। গত শুক্রবার রাতে প্রসববেদনা নিয়ে তিনি ভর্তি হন ডোমার উপজেলা পরিষদ মার্কেটের মমতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। অপারেশন শেষে রবিবার রিলিজ নেওয়ার সময় ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাদের বাচ্চা বিক্রির জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চাপ দেন ক্লিনিকটির চিকিৎসক ডা. ফারজানা আফরিন।

রাকিবুল হাসান ও হাবিবা সুলতানা দম্পতির দাবি, ভর্তির সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ২২ হাজার টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু সিজারের পর অনেক চেষ্টা করেও টাকা জোগাড় করতে না পারায় তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়।

তারা অভিযোগ করেন, ক্লিনিকটির চিকিৎসক ডা. ফারজানা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং একপর্যায়ে টাকা না দেওয়ায় প্রসূতি রোগী ও তার স্বজনদের একটি রুমে আটকে রাখা হয়। পাশাপাশি রোগীর ওষুধও বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, টাকা দিতে না পারায় তাদের বাচ্চা বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। ক্লিনিকের লোকজনের মাধ্যমে গত দুই দিন ধরে ৩-৪ জন লোক ক্লিনিকে আসছিল। তাদের মধ্যে একজন ৩০ হাজার এবং আরেকজন ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম প্রস্তাব করে। পরিকল্পনা ছিল, সেই টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা ডাক্তার রেখে বাকি ১০ হাজার টাকা রোগীর পরিবারকে দিয়ে বাচ্চা হস্তান্তর করা হবে।

পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে সাংবাদিক ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ক্লিনিকটিতে প্রায়ই রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। সিজারের বিল দিতে না পারায় বাচ্চা বিক্রির মতো অমানবিক চাপ দেওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা ক্লিনিকটি বন্ধসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় সাংবাদিক সোহাগ মামুন বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমরা দ্রুত ক্লিনিকে যাই। সেখানে গিয়ে আমরা নিজেরাই ডা. ফারজানার খারাপ আচরণ প্রত্যক্ষ করেছি।

অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকটির চিকিৎসক ডা. ফারজানা বলেন, বাচ্চা বিক্রি করতে বলেছি—এটা সত্য নয়। নির্ধারিত সময়ে রোগী রিলিজ নিতে পারছিল না, তাই বিল পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটি পরিদর্শন শেষে মেডিকেল অফিসার ডা. সোহান চৌধুরী জানান, নবজাতক বিক্রির অভিযোগ পাওয়ার পরই তারা দ্রুত তদন্তে নামেন। তদন্তকালে বাচ্চা বিক্রির অভিযোগসহ আরও কিছু অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে। এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হবে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ক্লিনিকটিতে দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার মতো বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। এসব অনিয়মের জন্য ক্লিনিকটিকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪