ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের যৌথ সমন্বয়ে কৃষক পরিবারের মাঝে স্লিপের মাধ্যমে পাঁচ থেকে দশ লিটার করে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় ২০ হাজার প্রান্তিক কৃষক পরিবারের মধ্যে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও ডিজেল নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্লিপের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক পরিবারগুলোর মাঝে ডিজেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ায় কিছুটা হলেও তেল নিয়ে দুশ্চিন্তা কমেছে বলে অভিমত কৃষক পরিবারের।
স্থানীয়দের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের টানাপোড়েন চলছে। এ সময় পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গোপনে তেল বিক্রির অভিযোগও তোলেন ভুক্তভোগীরা। উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কাজ সচল রাখতে স্লিপের মাধ্যমে ডিজেল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে স্লিপ সংগ্রহ করে পাম্পগুলো থেকে ডিজেল সংগ্রহ করে কৃষক পরিবারগুলো সেচ কাজে ব্যবহার করছেন বলে জানান ভাঙ্গা পৌরসভার পশ্চিম হাসামদিয়া মহল্লার কৃষক আলম মিয়া।
আজিমনগর ইউনিয়নের ঘোষ গ্রামের হানিফ হাওলাদার বলেন, “তিন দিন আগে বোরো আবাদে সেচের জন্য ২০০ টাকা দরে ১১ লিটার ডিজেল নিয়ে কাজ করেছিলাম। পরে আবার সংকটে পড়ে যাই। পরে কৃষি অফিস থেকে স্লিপ নিয়ে পাঁচ লিটার ডিজেল সংগ্রহ করি।”
ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোল্লা আল মামুন বলেন, বোরো ধানের মৌসুমে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার প্রান্তিক কৃষক এর সঙ্গে জড়িত। কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্যে ডিজেল পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় স্লিপের মাধ্যমে পাম্প থেকে ডিজেল সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাম্প মালিক ও কর্মচারীরাও সহযোগিতা করছেন।
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবু জাহের বলেন, তেল সরবরাহের সংকটের মধ্যেও সরকার যথাসাধ্য পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ করছে। কৃষকেরা যাতে বোরো মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য স্লিপের মাধ্যমে ৫ থেকে ১০ লিটার ডিজেল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফিলিং স্টেশন মালিকদেরও সহযোগিতা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন