মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় দীর্ঘদিনের প্রেম, বিয়ে, বিচ্ছেদ ও অনশন—সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রেমিক বিশ্বজিৎ পাত্রের হাত ধরে ঘরে ফিরেছেন তার স্ত্রী অনুশীলা বাড়ৈ। চারদিনের অনশন শেষে এলাকাবাসী ও সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে পারিবারিকভাবে মীমাংসার মাধ্যমে এই দম্পতির পুনর্মিলন ঘটে। এতে খুশি নবদম্পতি ও স্থানীয়রা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বিশ্বজিৎ পাত্র ও অনুশীলা বাড়ৈর মধ্যে দীর্ঘ ১০ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় চার বছর আগে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিশ্বজিৎ অভিযোগ করেন, স্ত্রী অনুশীলার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়তে তিনি নিজস্ব স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। এমনকি লাখ লাখ টাকা খরচ করে তাকে নার্সিং পড়িয়েছেন। কিন্তু চাকরি পাওয়ার পর অনুশীলা ধীরে ধীরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
সম্প্রতি বিশ্বজিৎ জানতে পারেন, তাকে না জানিয়েই স্ত্রী অনুশীলা তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর আশঙ্কায় গত চারদিন ধরে উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামে অনুশীলা বাড়ৈর বাড়ির সামনে বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে অনশনে বসেন বিশ্বজিৎ। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাধানে এগিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, এলাকাবাসী ও সাংবাদিকদের উদ্যোগে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সমঝোতার এক পর্যায়ে অনুশীলা নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর স্বামী বিশ্বজিতের হাত ধরে তিনি বাড়ি ফেরেন। চারদিনের অনশনও শেষ করেন বিশ্বজিৎ পাত্র।
এ বিষয়ে অনুশীলা বাড়ৈ বলেন, “আমি ভুলের মধ্যে ছিলাম। এখন বুঝতে পেরেছি। আমি আমার স্বামীকে নিয়ে সামনে সুখে-শান্তিতে থাকতে চাই। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।”
বিশ্বজিৎ পাত্র বলেন, “আমার বিশ্বাস ছিল, আমার স্ত্রী একদিন ফিরে আসবে। সবার প্রচেষ্টায় আমি তাকে ফিরে পেয়েছি। আমরা যেন সারাজীবন সুখে-দুঃখে একসাথে সংসার করতে পারি, সবার কাছে দোয়া চাই।”
স্থানীয়রা জানান, তাদের এই ভালোবাসার বন্ধন যেন আগামীতেও অটুট থাকে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
রিপোর্টার্স২৪/সাইফ