সিনিয়র রিপোর্টার: রাজধানীতে নাটকীয় এক দিনের শেষে সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোরে আটক থেকে বিকেলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ;পুরো সময়জুড়ে আদালতপাড়া ছিল উত্তেজনাপূর্ণ।
ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তোলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে দাবি করে, মামলায় তার সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন দুই আবেদনই নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
লালবাগ থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আজিমপুর এলাকায় নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে আশরাফুল ওরফে ফাহিম গুরুতর আহত হন এবং তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে। এতে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং ঘটনার বিস্তারিত উদঘাটনের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
শুনানিকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপক্ষের সমর্থকদের স্লোগান এবং আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।পুরো সময়জুড়ে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে নীরব ও বিষণ্ন দেখা যায়। শুনানি শেষে তাকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় কারাগারে নেওয়া হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি