স্পোর্টস ডেস্ক: আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স বাছাইয়ে জায়গা নিশ্চিত করার পরই বড় অস্বস্তিতে পড়েছে ইরিত্রিয়া। এসওয়াতিনির বিপক্ষে জয় পাওয়ার পর দলটির সাত ফুটবলার নিখোঁজ হয়েছেন। যে কারণে দেশটির টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত ৩১ মার্চ দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ ব্যবধানে এসওয়াতিনিকে হারিয়ে মূল বাছাইপর্বে জায়গা পায় ইরিত্রিয়া। তবে সেই সাফল্যের পরই ঘটে অস্বাভাবিক এই ঘটনা।
কোয়ালিফায়ার ম্যাচে অংশ নেওয়া ২৪ সদস্যের দলে ছিলেন ১০ জন স্থানীয় ফুটবলার। তাদের মধ্যে মাত্র তিনজন দেশে ফিরেছেন, বাকি সাতজন পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ)-এর এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, এসওয়াতিনি থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে মিশর দিয়ে দেশে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি রহস্যজনক। লোবাম্বায় ৩১ মার্চ ম্যাচ জয়ের পর ঠিক কী হয়েছে, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না। আমরা মনে করি দলটি দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছেছিল। কিন্তু কায়রোতে পৌঁছানোর পর দেখা যায় সাত খেলোয়াড় নেই।’
সম্প্রতি দায়িত্ব পাওয়া কোচ হিশাম ইয়াকান এসওয়াতিনির বিপক্ষে দুই লেগের ম্যাচের জন্য ২৪ জনের দল গড়েন। এর মধ্যে ১৪ জন ছিলেন প্রবাসভিত্তিক খেলোয়াড়, যারা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ফিলিপাইন, সুইডেনসহ বিভিন্ন দেশে খেলেন।
এই টাইয়ে তিন গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মিশরের ক্লাব ইসমাইলিয়া ইলেকট্রিসিটি ক্লাবের ফরোয়ার্ড আলি সুলেইমান। প্রথম লেগ ২-০ এবং দ্বিতীয় লেগ ২-১ ব্যবধানে জিতে মূল বাছাইপর্বে ওঠে ইরিত্রিয়া।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম না থাকায় এসওয়াতিনির বিপক্ষে ‘হোম’ ম্যাচটি মরক্কোর মেকনেস শহরে খেলতে হয় ইরিত্রিয়াকে। ২০০৭ সালের পর এটিই ছিল আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে তাদের প্রথম অংশগ্রহণ।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন গোলরক্ষক কিবরোম সলোমন ও আওয়েত মাহারেনা, ডিফেন্ডার ওয়েদেব ফেসেহায়ে, ইয়োসিফ সেগাই ও নাহোম আওয়েত, মিডফিল্ডার মেধানে রেডিয়ে এবং ফরোয়ার্ড আমানুয়েল বেনহুর। দেশে ফিরেছেন অধিনায়ক আবেললম টেকলেজঘি, মিডফিল্ডার নাহোম তাদেসে ও স্ট্রাইকার রোমেল আব্দু।
গত দুই দশকে বিদেশ সফরের সময় ইরিত্রিয়ার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দলত্যাগ নতুন ঘটনা নয়। ২০০৭ সালে অ্যাঙ্গোলা, ২০০৯ সালে কেনিয়া, ২০১১ সালে তানজানিয়া, ২০১২ সালে উগান্ডা, ২০১৫ সালে বতসোয়ানা এবং ২০১৯ সালে আবার উগান্ডায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৮০ জন ইরিত্রিয়ান খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তা বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটিতে শিক্ষাজীবন শেষে অনির্দিষ্টকাল সামরিক সেবার বাধ্যবাধকতা এই দলত্যাগের প্রধান কারণ। ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকির শাসনকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ‘দমনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। যদিও এসব অভিযোগকে ‘কল্পকাহিনি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-২০ দলের খেলোয়াড়রা উগান্ডায় পালিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে দল পাঠানো বন্ধ রেখেছিল ইরিত্রিয়া। তবে ২০২৭ আফ্রিকা কাপ বাছাইয়ে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসে তারা।
ফেব্রুয়ারিতে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পাওলুস ওয়েলদেহাইমানট আন্দেমারিয়াম পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কাউন্সিলের প্রধান নির্বাচিত হওয়াও ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফেরার ইঙ্গিত।
তবে সর্বশেষ এই ঘটনায় আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে ইরিত্রিয়ার ফুটবল। দেশটির শরণার্থীদের সহায়তায় কাজ করা সংগঠনের প্রধান জর্জ ঘেব্রেসলাসি বলেন, ‘এই ঘটনা আমাদের দেশের বাস্তবতা তুলে ধরে। আমরা ভেবেছিলাম পরিস্থিতি বদলাবে, কিন্তু কিছুই বদলায়নি।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব