স্পোর্টস ডেস্ক: ডার্টসের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডার্টস রেগুলেশন অথরিটির (ডিআরএ) সিদ্ধান্তে এখন থেকে ট্রান্সজেন্ডার নারী নোয়া-লিন ভ্যান লিউভেন প্রফেশনাল ডার্টস করপোরেশনের (পিডিসি) নারী বিভাগভুক্ত কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবেন না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেবল জৈবিক নারী খেলোয়াড়রাই নারী ইভেন্টে অংশ নিতে পারবেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভ্যান লিউভেন আর পিডিসি উইমেনস সিরিজে খেলতে পারবেন না। ওই সিরিজে তিনি ছয়টি শিরোপা জিতেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি উইমেনস ওয়ার্ল্ড ম্যাচপ্লেতেও অংশ নিতে পারবেন না, যেখানে এ গ্রীষ্মে তার যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাবনা ছিল।
ডিআরএ বলেছে, ডার্টসে ‘ন্যায্য প্রতিযোগিতা’ নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি এ বিষয়ে ড. এমা হিলটনের একটি প্রতিবেদন বিবেচনায় নেয়। হিলটন খেলাধুলায় লিঙ্গ ও শ্রেণিবিভাগ নিয়ে গবেষণা করেছেন। তার প্রতিবেদনে ডার্টসকে ‘জেন্ডার-প্রভাবিত খেলা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরুষ ও নারীর মধ্যে এমন একাধিক শারীরিক পার্থক্য আছে, যা নারী খেলোয়াড়দের তুলনায় পুরুষদের সুবিধা দেয়। এতে উচ্চতা, হাত-পা লম্বা হওয়া, কাঁধের প্রস্থ, পেশির পরিমাণ এবং টেনডনের দৃঢ়তাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত মাসে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিও লস অ্যাঞ্জেলেসে ২০২৮ অলিম্পিক থেকে নারী বিভাগে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
ডিআরএর সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ২৯ বছর বয়সী ভ্যান লিউভেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, নতুন এই সিদ্ধান্তে তাকে কার্যত “অবসর” নিতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পরও এখন তাকে বলা হচ্ছে, তিনি আর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না।
ভ্যান লিউভেন আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু তার জন্য নয়, ট্রান্স কমিউনিটির জন্যও বড় ধাক্কা। তার দাবি, ট্রান্স মানুষদের জন্য দিন দিন খেলাধুলায় অংশ নেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
তবে তিনি পেশাদার ডার্টসের উচ্চ পর্যায়ে ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন, কারণ পিডিসির মূল পেশাদার ট্যুর সবার জন্য উন্মুক্ত। বর্তমানে ওই ট্যুরে একমাত্র নারী খেলোয়াড় হিসেবে আছেন বিউ গ্রিভস। এর আগে লিসা অ্যাশটন ২০২০ ও ২০২১ সালে দুই বছরের জন্য পেশাদার ট্যুর কার্ড পেয়েছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি