| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সুয়েজ খালে টোল বৈধ, হরমুজ প্রণালীতে নয়;কেন ভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন?

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১০, ২০২৬ ইং | ১৫:৪৩:৪২:অপরাহ্ন  |  ৬৫৩৫৩ বার পঠিত
সুয়েজ খালে টোল বৈধ, হরমুজ প্রণালীতে নয়;কেন ভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন?
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে এ জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের ইরানের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে বৈধ নয়,এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। অথচ সুয়েজ খাল বা পানামা খালে টোল নেওয়া বৈধ। এই পার্থক্যের মূল কারণ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের বিধান।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালীতে কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সেখানে দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইরান চাইছে, ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে ট্রানজিট ফি আদায় করতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজের ধরন, পণ্য এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী এই ফি নির্ধারণ করা হতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেল তেলের ওপর নির্দিষ্ট হারে অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় এসেছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে একটি প্রোটোকল তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে জাহাজগুলোকে আগে অনুমতি নিতে হয়। তবে ওমান এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, বিশেষ করে সমুদ্র আইন সম্পর্কিত জাতিসংঘ সনদ (ইউএনক্লস) অনুযায়ী, কোনো দেশের ভূখণ্ডঘেঁষা প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলে শুধু অনুমতি দেওয়ার জন্য ফি নেওয়া যায় না।

অর্থাৎ, প্রাকৃতিক প্রণালী, যেমন হরমুজ; আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সেখানে “নিরবচ্ছিন্ন ও বাধাহীন চলাচল” নিশ্চিত করতে হয়। তবে নির্দিষ্ট সেবা (যেমন পাইলটিং বা বন্দর সুবিধা) দিলে সীমিত চার্জ নেওয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে, সুয়েজ খাল বা পানামা খাল প্রাকৃতিক নয়, মানবসৃষ্ট জলপথ। এ কারণে এগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সেখানে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপ বৈধ। মিশর ও পানামা নিয়মিতভাবে এই খাল ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত টোল আদায় করে থাকে।

ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দিয়েছে এবং কিছু জাহাজে হামলার অভিযোগও উঠেছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিয়ে কিছু জাহাজ পারাপার হয়েছে,যদিও তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

উপসাগরীয় দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে, কোনো দেশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে “জিম্মি” করে রাখতে পারে না। কাতারও বলেছে, সব দেশেরই এই প্রণালী অবাধে ব্যবহারের অধিকার রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন অবাধ রাখা যে কোনো শান্তি চুক্তির অপরিহার্য অংশ হতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপের চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের কথাও আলোচনায় রয়েছে, তবে তা বাস্তবায়ন জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ডেকে আনতে পারে।

সার্বিকভাবে, প্রাকৃতিক প্রণালী ও মানবসৃষ্ট খালের আইনি অবস্থানের পার্থক্যই সুয়েজে টোল বৈধ হলেও হরমুজে তা অবৈধ হওয়ার মূল কারণ।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪