আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আসন্ন শান্তি আলোচনা শুরুর আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ শর্ত সামনে আসায় পাকিস্তানে নির্ধারিত আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এই দুটি শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগেই সমঝোতা হয়েছিল। শর্ত পূরণ না হলে আলোচনা শুরু হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে যাওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়ে ইতিবাচক ফলাফলের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি প্রতারণার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দল তা গ্রহণ করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকে জমা থাকা তেল ও গ্যাস রপ্তানির বিপুল অর্থ,যার পরিমাণ কয়েক দশ বিলিয়ন ডলার,এখনও তুলতে পারছে না ইরান।
এদিকে, ছয় সপ্তাহের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে পরিস্থিতি এখনও নাজুক রয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা শান্তি প্রক্রিয়ার প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির ফলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানও চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো ধরনের ফি আরোপের চেষ্টা করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
অন্যদিকে, ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে যে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। ফলে শুক্রবারও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকে। বিভিন্ন শহরে এসব হামলায় একাধিক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, একটি হামলায় লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর আট সদস্য নিহত হয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি