আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ বড় ধরনের অর্থসংকটে পড়েছে। প্রতিশ্রুত ১৭ বিলিয়ন ডলারের সামান্য অংশ হাতে আসায় গাজা নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রায় ১০ দিন আগে ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সম্মেলনে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো গাজার পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য বিপুল অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে এখন পর্যন্ত বাস্তবে অর্থ ছাড় হয়েছে খুবই সীমিত।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস নিরস্ত্রীকরণের পর গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ব্যাপক পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করবে,এমন পরিকল্পনাও ছিল।
তবে বাস্তবে অর্থসংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের ভাষ্য, ১০টি দেশ প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত কেবল তিনটি দেশ,সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো এবং যুক্তরাষ্ট্র কিছু অর্থ দিয়েছে। মোট প্রাপ্ত অর্থ ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম।
অন্য একটি ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, অর্থের অভাবে এনসিএজি এখনো গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি। বোর্ডের দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ ফিলিস্তিনি বিভিন্ন গোষ্ঠীকে জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো অর্থই উপলব্ধ নেই।
এনসিএজির নেতৃত্বে রয়েছেন আলি শাআথ, যিনি পূর্বে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের উপমন্ত্রী ছিলেন। তার নেতৃত্বাধীন কমিটির দায়িত্ব ছিল গাজার মন্ত্রণালয়গুলো পরিচালনা ও পুলিশ বাহিনী তদারকি করা। তবে নিরাপত্তা ও অর্থসংকটের কারণে কমিটির সদস্যরা বর্তমানে কায়রোর একটি হোটেলে অবস্থান করছেন।
বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, টানা দুই বছরের ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এ সময়ে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এদিকে নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল বলছে, হামাসকে আগে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। বিপরীতে হামাস জানায়, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা ছাড়া তারা নিরস্ত্রীকরণে রাজি নয়।
মিসরের মধ্যস্থতায় চলমান এই আলোচনা এখনও অগ্রগতি পায়নি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো আশঙ্কা করছে, অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে ইসরায়েল আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হয়। এর জবাবে ইসরায়েলের দুই বছরের অভিযানে গাজায় ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে তীব্র খাদ্য সংকট ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি দেখা দিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি