| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রয়টার্স প্রতিবেদন

রক্তপাত থামানোর আশায় আলোচনায় সম্মত লেবানন, সাফল্য নিয়ে সংশয়

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১০, ২০২৬ ইং | ২২:৪৫:১০:অপরাহ্ন  |  ৬০০৪৫ বার পঠিত
রক্তপাত থামানোর আশায় আলোচনায় সম্মত লেবানন, সাফল্য নিয়ে সংশয়
ছবির ক্যাপশন: ছবি রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিনের শত্রু ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে লেবানন। তবে চলমান সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে এই আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতির আশা খুব কম; বিশেষজ্ঞদের এমনটাই মত।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক মাস ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানান। এই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, বৈরুতের বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বেড়েছে।

অবশেষে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আলোচনায় সম্মতি দিলেও, বিশ্লেষকদের মতে লেবানন এখন এতটাই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে যে কার্যকর কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করছে। ফলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এক লেবানিজ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা লেবাননের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেবেন, তাদের হাতে কার্যকর কোনো চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা নেই,তাই এই আলোচনা অনেকটাই অর্থহীন।

গত ২ মার্চ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে ইসরায়েল লেবাননে বিমান হামলা জোরদার করে। এরপর থেকে স্থল অভিযানও বিস্তৃত হয়েছে। সাম্প্রতিক একদিনেই ইসরায়েলি হামলায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যা ১৯৯০ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর অন্যতম ভয়াবহ দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলো, যেখান থেকে হিজবুল্লাহ সমর্থন পায়, সেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাসিন্দা মনে করছেন, তাদের সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে।

ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হয়েছেন। এ অবস্থায় দেশজুড়ে হতাহতদের দাফন ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, নেতানিয়াহুর আলোচনায় সম্মতি মূলত আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার কৌশল হতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রেক্ষাপটে।

লেবাননের রাষ্ট্র কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল।দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িক ক্ষমতা বণ্টন ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে তা আরও জটিল হয়েছে। ২০১৯ সালের অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং ২০২০ সালের বৈরুত বন্দর বিস্ফোরণের মতো ঘটনাগুলো সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও কমিয়ে দিয়েছে।২০২৪ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ লেবানিজ নাগরিক সরকারের ওপর কোনো আস্থা রাখেন না।

যদিও ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, ইসরায়েল তখনও লেবাননে সেনা মোতায়েন রাখে এবং হামলা চালিয়ে যায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল লেবাননের সরকার ও সেনাবাহিনীকে হিজবুল্লাহ-কে নিরস্ত্রীকরণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দায়ী করে।

লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন, জোরপূর্বক নিরস্ত্রীকরণ দেশকে নতুন করে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আর ইসরায়েলি সেনা উপস্থিত থাকা অবস্থায় আলোচনার মাধ্যমে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করাও কঠিন।

নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, আলোচনায় হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। তবে সাম্প্রতিক ভয়াবহ সহিংসতার পর এই লক্ষ্য অর্জন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল ইয়াং বলেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা মানে পুরো শিয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো, যা তারা সহজে মেনে নেবে না।

তার মতে, লেবানন একটি বিভক্ত অবস্থায় এই আলোচনায় যাচ্ছে,যেখানে দেশের অভ্যন্তরে মতভেদ, দুর্বল রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪