আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ব্যর্থ আলোচনার পর শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তার সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও রয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি ইরান সফর করছেন। তেহরানে তাকে স্বাগত জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাগবাজ শরীফের নেতৃত্বে ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, সৌদি আরব ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৈঠক শেষে পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে “গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই চ্যানেলের মাধ্যমেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রায় সাত সপ্তাহের সংঘাতে হাজারো প্রাণহানি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও তা আগামী সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা।
বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি প্রধান ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে যায়। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং লেবাননে চলমান সংঘাত।
ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করলেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েল ও লেবাননের নেতাদের মধ্যে শিগগিরই আলোচনা হতে পারে।
হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সমঝোতা হলে ওমান উপকূলঘেঁষা অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও মূল ইস্যুগুলোতে সমাধান না এলে স্থায়ী শান্তি অর্জন কঠিন হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি