আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সামরিক অবরোধের মধ্যেই একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ইরানের উপকূলে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের মুম্বাই কনস্যুলেট এক বার্তায় জানায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ওই বিশালাকৃতির অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজটি (ভিএলসিসি) যাত্রাপথে তার ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু রেখেই আন্তর্জাতিক জলসীমা পাড়ি দেয় এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে।
ইরানের দাবি, জাহাজটি কোনো ধরনের গোপনীয়তা বজায় না রেখেই প্রকাশ্যে চলাচল করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও হুমকিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছিল, ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে আসা কোনো জাহাজকে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইরানের উপকূলে যেতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজন হলে সেগুলোকে বাধা দেওয়া হবে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকর হওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই সমুদ্রপথে ইরানের প্রায় সব ধরনের বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তবে বাস্তবে কিছু জাহাজ এই অবরোধ ভেঙে চলাচল করেছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। একটি সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্যে দেখা যায়, অন্তত দুটি জাহাজ অবরোধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ ইরানের বন্দর থেকে পণ্য খালাস করে প্রণালী পাড়ি দেয়। আরেকটি ট্যাঙ্কার, যা কোমোরোসের পতাকাবাহী, ইরানের বুশেহর বন্দর থেকে মিথানল নিয়ে একই পথ অতিক্রম করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা বাড়লে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও বাড়ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি