| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন, ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ইং | ১৭:৩৫:৪৫:অপরাহ্ন  |  ৩৮৯ বার পঠিত
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন, ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি রয়টার্স

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরালোভাবে প্রদর্শন করেছে ইরান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র কমান্ডোরা একটি বড় বাণিজ্যিক জাহাজে অভিযান চালিয়ে সেটি দখল করছে।

ভিডিওতে মুখোশধারী ইরানি বাহিনীকে দ্রুতগতির নৌযানে করে ‘এমএসসি ফ্রানচেসকা’ নামের একটি কার্গো জাহাজের পাশে গিয়ে দড়ির সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে এবং অস্ত্র হাতে জাহাজে প্রবেশ করতে দেখা যায়। একইসঙ্গে ‘এপামিনোন্দাস’ নামের আরেকটি জাহাজের দৃশ্যও দেখানো হয়। ইরানের দাবি, অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করায় বুধবার দুটি জাহাজই তারা আটক করেছে।

ইরানের সংসদের উপ-স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাঈ জানিয়েছেন, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে নতুন আরোপিত টোলের প্রথম অর্থ ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেন মোহসেনি-এজেই বলেন, প্রণালিতে যেসব জাহাজ আটক করা হয়েছে, তারা ‘আইনের মুখোমুখি’ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করায়, পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তেহরান প্রণালিটি অন্য দেশের জাহাজের জন্য বন্ধ রেখেছে। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে না।

এদিকে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে মঙ্গলবার শেষ মুহূর্তের আলোচনা বাতিল হয়ে যাওয়ায় নতুন করে কোনো সংলাপের সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান, যারা এর আগে এক দফা শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছিল, তারা এখনো দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও ইরান নতুন বৈঠকে অংশগ্রহণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।

পাকিস্তানের একটি সরকারি সূত্র জানায়, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা নতুন দফা আলোচনার সম্ভাব্য সময় জানতে চাইলেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান’ ও অবরোধের কারণে আলোচনায় অগ্রসর হওয়া কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির শেষ সময়ে নতুন হামলার হুমকি থেকে সরে এলেও ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করেননি। ফলে বর্তমানে পরিস্থিতি ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’—এমন অনিশ্চয়তায় রয়ে গেছে। তেহরানের এক বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, যেকোনো মুহূর্তে নতুন হামলার আশঙ্কায় মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ার বিভিন্ন জলসীমায় অন্তত তিনটি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজকে বাধা দিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করেছে বলে জানা গেছে।

এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারের বেশি হয়েছে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এদিকে পেন্টাগনে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের নীতিনির্ধারণ ও জাহাজ নির্মাণ ইস্যুতে মতবিরোধের জেরেই তাকে অপসারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমানো, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার যে লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করেছিল, এখন পর্যন্ত তার কোনোটিই অর্জিত হয়নি। বরং ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও বজায় রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪