| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বৈঠক, যুদ্ধবিরতি বাড়াতে উদ্যোগ নিচ্ছে লেবানন

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ইং | ১৭:৪৪:০৯:অপরাহ্ন  |  ৪১৮ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বৈঠক, যুদ্ধবিরতি বাড়াতে উদ্যোগ নিচ্ছে লেবানন
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি রয়টার্স

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। এই বৈঠকে লেবানন ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর দাবি তুলবে বলে জানা গেছে। এর একদিন আগেই ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী রোববার শেষ হওয়ার কথা। গত ১৬ এপ্রিল কার্যকর হওয়া এই সমঝোতার ফলে সহিংসতা অনেকটাই কমে এলেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী নিজেদের ঘোষিত একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করে অবস্থান নিয়েছে।

হিজবুল্লাহ বলছে, দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালানোর অধিকার তাদের রয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখতে চাইলেও শর্ত হিসেবে ইসরায়েলের পূর্ণাঙ্গভাবে চুক্তি মেনে চলার দাবি জানিয়েছে।

বুধবার লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিলও রয়েছেন বলে দেশটির সামরিক সূত্র ও তার কর্মস্থল নিশ্চিত করেছে।

হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখতে হলে ইসরায়েলকে ‘হত্যাকাণ্ড বন্ধ, পূর্ণাঙ্গভাবে গোলাগুলি বন্ধ এবং দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামগুলো ধ্বংস বন্ধ’ করতে হবে। তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করে সরকারকে সব ধরনের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ বন্ধের আহ্বান জানান।

গত ২ মার্চ ইরানকে সমর্থন জানিয়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা চালালে পুনরায় সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে চলমান যুদ্ধে লেবাননে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বর্তমানে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যা তাদের ভাষায় উত্তর ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা থেকে সুরক্ষার জন্য ‘নিরাপত্তা বলয়’। একইসঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের ওই এলাকায় প্রবেশ না করার সতর্কবার্তাও দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে দেশটির প্রতিনিধি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামগুলোতে ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের দাবি জানাবেন।

একজন লেবাননি কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলে পরবর্তী ধাপে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করা যাবে। সেই পর্যায়ে লেবানন ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, ইসরায়েলে আটক লেবাননি নাগরিকদের ফেরত আনা এবং স্থলসীমান্ত নির্ধারণের বিষয়গুলো সামনে আনতে চায়।

অন্যদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পরিবেশ তৈরি করা। দেশটি লেবানন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার কৌশলও নিচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। ইসরায়েলের পক্ষে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইচিয়েল লেইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মাওয়াদ অংশ নেবেন। এর আগে ১৪ এপ্রিল তাদের মধ্যে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা কয়েক দশকের মধ্যে দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত।

তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, লেবানন ইস্যুতে তাদের মধ্যস্থতার সঙ্গে ইরানকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, লেবাননের যুদ্ধবিরতি মূলত ইরানের চাপের ফল, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার কারণে নয়।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪