আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবৈধ অভিবাসন ও অপরাধ দমনে চালানো বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ অন্তত ২৩১ বিদেশিকে আটক করেছে উগান্ডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১ মে) এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল উগান্ডার উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত একদল নাইজেরীয় নাগরিক। একই সময়ে রাজধানী কাম্পালার একটি আবাসিক এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ঘানা, মিয়ানমার, ইথিওপিয়া, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কাম্পালার অভিযানে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স থেকে ১৬৯ জন বিদেশিকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে ৩৬ জন নারী। সেখানে নিজস্ব রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সুবিধা ছিল এবং ওই এলাকায় চলাচলেও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, অনেক বিদেশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই উগান্ডায় অবস্থান বা কাজ করছিলেন। অনেকের কাছে বৈধ পাসপোর্টও পাওয়া যায়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কেউ কেউ জানিয়েছেন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের উগান্ডায় নেওয়া হয়েছে। আবার কয়েকজন সাইবার প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। অভিযানে কিছু সন্দেহজনক সামগ্রীও জব্দ করা হয়েছে, যা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।
উগান্ডার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইমন পিটার মুন্ডেয়ি জানান, আটক ব্যক্তিদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে তদন্ত চলছে—পাচারের শিকার, অভিযুক্ত অপরাধী এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানরত ব্যক্তি। বর্তমানে তাদের দুটি স্থানে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পাচারের শিকার ও ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সহায়তা করা হবে। আর পাচারচক্র বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, উগান্ডা দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশিদের জন্য তুলনামূলক উন্মুক্ত দেশ হিসেবে পরিচিত। প্রতিবেশী কঙ্গো, বুরুন্ডি ও দক্ষিণ সুদানসহ বিভিন্ন দেশের সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা লাখো মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি