| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গতি পাচ্ছে না দেশের প্রধান শেয়ারবাজার: ডিএসইর পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন আসাদুর রহমান

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০২, ২০২৬ ইং | ১৮:১৩:০০:অপরাহ্ন  |  ১১৩৩ বার পঠিত
গতি পাচ্ছে না দেশের প্রধান শেয়ারবাজার: ডিএসইর পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন আসাদুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার: যেকোনো দেশের শিল্পায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে রাজস্ব আহরণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি জোরদার করার জন্য শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করার সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম হলো পুঁজিবাজার। অর্থনীতিতে সময়োপযোগী ভূমিকা রাখার মাধ্যমে পুঁজিবাজার সারা পৃথিবীতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সবচেয়ে কার্যকর ও ফলপ্রসূ মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিনিয়োগ করার সবচেয়ে লাভজনক ও আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে সুপরিচিত। কিন্তু সারা পৃথিবীতে বিদ্যমান ও কার্যকর মাধ্যম বাংলাদেশে বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে। বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করলেই বোঝা যাবে। যেকোনো স্টক এক্সচেঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মার্কেট অপারেশনস ডিপার্টমেন্ট ও ট্রেক এফেয়ার্স (সাবেক মেম্বারশিপ এফেয়ার্স) ডিপার্টমেন্ট, লিস্টিং, কর্পোরেট ফাইন্যান্স, মনিটরিং ও সারভেইল্যান্সের মতো ডিপাটমেন্ট। ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কীম অনুযায়ী আলোচ্য মার্কেট অপারেশনস ও ট্রেক এফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের রেগুলেটোরি এফেয়ার্স ডিভিশনের অধীনে থাকার কথা কিন্তু ডিমিউচুয়ালাইজেশনের শুরু থেকে অর্থাৎ ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচুয়ালাইজেশন অ্যাক্ট, ২০১৩ পাশ হবার পর যখন রেগুলেটোরি এফেয়ার্স ডিভিশন যাত্রা শুরু করল তখন থেকে ডিএসইর এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা বিশেষ করে বর্তমান চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মোহাম্মদ আসাদুর রহমান ক্ষমতাবলে প্রভাবশালী মহলের সাথে যোগসাজশে মার্কেট অপারেশনস ডিপার্টমেন্ট ও ট্রেক এফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টকে রেগুলেটোরি এফেয়ার্স ডিভিশনের বাইরে রাখে।মার্কেট অপারেশনস ডিপাটমেন্ট হাতে থাকা মানে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নিজেদের নাগালে রেখে কাজে লাগানো যায়।

জানা গেছে, ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ যখন দায়িত্বরত ছিলেন তখন মার্কেট অপারেশনস ডিপাটমেন্টের প্রধান সৈয়দ আবু জাফর শামীমকে লিস্টিং ও মপস থেকে বদলি করে তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনিং একাডেমিতে পোস্টিং দেয়া হয়েছিল কারণ মূল্য সংবেদনশীল তথ আসার পর বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তা প্রচার না করে ডিএসইর কতিপয় কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট শেয়ার কিনতেন। নিজেরা শেয়ার কেনার অর্ডার দেয়ার পর নিউজ প্রচার করতেন। আর ট্রেক এফেয়ার্স হাতে থাকলে ট্রেকহোল্ডার অর্থাৎ মেম্বারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার প্রক্রিয়া সহজতর হয় কারণ দিন শেষে ডিএসই মেম্বারদের প্রতিষ্ঠান। কর্পোরেট সুশাসন বলতে যা বুঝায় তার ছোয়া বা আঁচ আজও ডিএসইতে লাগেনি কারণ শক্তিশালী মেম্বাররা নিজেদের স্বার্থে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ডিএসইকে দাঁড়াতেই দেয়নি। যে কারণে কোনো কর্মকর্তা বিশেষ করে এমডি নিজ দক্ষতায় স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলেই তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। 

সূত্রমতে, সাবেক বেশ কয়েকজন এমডি শুধুমাত্র আসাদুর রহমানের কারণে টিকতে পারেনি। আলোচ্য ডিপার্টপমেন্ট দুটো আরএডির বাইরে রাখার যুক্তি হিসেবে বরাবর বলা হয়ে থাকে যে পিএসআই (প্রাইস সেনসিটিভ ইরফরমেশন বা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য) তো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তত্ত্বাবধানে থাকার বিষয়টি আইনে আছে। বিষয়টি সত্য কিন্তু ব্যাখ্যা হলো যখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নিজে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে তার নিজের শেয়ার অফলোড করবে তখন ডিএসইর মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির এমডির এখতিয়ারে থাকবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের বিষয়ে কাজ করার কথা রেগুলেটোরি এফেয়ার্স ডিভিশনের অর্থাৎ মার্কেট অপারেশনস ডিপার্টমেন্ট থাকার কথা রেগুলেটোরি এফেয়ার্সের আন্ডারে। ২০১৯ সালে ডিএসইর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমানের আমলে এ বিষয়ে এসইসিতে একটা চিঠিও লেখা হয়েছিল কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি আর অগ্রসর হয়নি। 

উল্লেখ্য, ডিমিউচুয়ালাইজেশনের আগে এক সময় মার্কেট অপারেশনস ডিপার্টমেন্ট লিস্টিং এফেয়ার্স ডিপাটমেন্টের অংশ ছিল। 

জানা গেছে, বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি ও মার্কেট অপারেশনস ডিপার্টমেন্টের কাজের কলেবর বাড়ার কারণে লিস্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে মার্কেট অপারেশন ডিপাটমেন্টকে আলাদা করা হয়েছে। কিন্তু যখন ডিমিউচুয়ালাইজেশন হলো তখন লিস্টিং ডিপাটমেন্ট গেল রেগুলেটোরি এফেয়ার্স ডিভিশনের অধীনে আর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট অপারেশনসকে আরএডির বাইরে রেখে দেয়া হলো। সাবেক কোম্পানি সেক্রেটারি ও বর্তমানে সিওও হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আসাদুর রহমান মূলত ডিএসইর হর্তাকর্তা।

আইন অনুযায়ী রেগুলেটোরি এফেয়ার্স ডিভিশনের সবকিছু দেখার কথা চিফ রেগুলেটোরি অফিসারের কিন্তু আসাদুর রহমান তার সিআরও পদের জন্য যোগ্য ও অভিজ্ঞ মানুষজনকে বাদ দিয়ে তোষামোদকারী একজনকে সিআরও পদে বসিয়ে নিজে সবকিছু কলকাঠি নাড়ছেন ও গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। 

জানা গেছে, স্টক এক্সচেঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা ডিপাটমেন্ট হলো লিস্টিং ডিপাটমেন্ট। এই ডিপাটমেন্টেও বসানো হয়েছে উনার সবচেয়ে কাছের মানুষকে যার উক্ত ডিপাটমেন্ট চালানোর বা কাজ করার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। আরো বিস্ময়কর হলো সারভেইল্যান্সের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গায় প্রধান হিসেবে যাকে বসানো হয়েছে তার এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পালন করার মতো সক্ষমতা আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট অবকাশ আছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেছেন যে, আসাদুর রহমান যেভাবে সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জাতীয় এই প্রতিষ্ঠানকে কব্জা করেছেন তাতে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কোনো কল্যাণ তো হবেই না বরঞ্চ ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব টিকে থাকা নিয়ে টানাটানি লেগে যাবে। সময়ের স্রোত যেদিকে আসাদুর রহমানও সেদিকে থাকেন যাতে সুবিধা পেতে কোনো সমস্যা না হয়। বর্তমান বোর্ডের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিচালকের সাথে সুসম্পর্ক থাকার কারণে আসাদুর রহমান যা খুশি তা করেও কোনো বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন না। অন্যদিকে চাকরি হারানোর ভয়ে কোনো কর্মকর্তা এসব বিষয়ে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না কারণ ডিএসইর বোর্ডের একজন স্বতন্ত্র পরিচালকের সাথে যোগসাজশে জিএম পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা স্টাফ ছাঁটাইয়ের তালিকা তৈরি করে জনবল কমানোর নামে প্রহসন করছেন কারণ একদিকে পুরোনো অভিজ্ঞ লোকজনকে বাদ দেয়ার পায়তারা চলছে অন্যদিকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন পদে লোকজন নিয়োগ দেয়ার কাজ চলমান রয়েছে। ছাঁটাইয়ের আলাপ যখন তুঙ্গে তখন সিএফও, সিটিও, জিএম (এইচআর) জিএম (ইন্টারনাল অডিট) জিএম ফাইন্যান্স (যিনি পরে চাকরি ছেড়ে চলে গিয়েছেন), ইন্টারনাল অডিটে আরো দুইজন সিনিয়র এগজিকিউটিভ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। 

শোনা যাচ্ছে, কোম্পানি সেক্রেটারি ও সিআরও নিয়োগ দেয়া হবে। অথচ পুরোনো স্টাফদের ভিতরে অনেকে আলোচ্য পদগুলোতে ভালোভাবে কাজ করার যোগ্যতা রাখলেও তাদেরকে সেসব পদে নিয়োগ দেয়া বা কাজ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে আসাদুর রহমান তার পছন্দের লোকজন ছাড়া কাউকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজ করার সুযোগ দেবেন না যা ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। অনেক দিন পূর্ণকালীন এমডির পদ ফাঁকা থাকার পর সম্প্রতি মিস নুজহাত আনোয়ারকে এমডি পদে নিয়োগ হলেও ক্ষমতার নাটাই আসাদুর রহমানের হাতে রয়ে গিয়েছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন যে এমডি ম্যাডামের কাছে কোনো বিষয় নিয়ে গেলে উনি বলেন আসাদ ভাইয়ের সাথে কথা বলেন। অফিসারদের দেশের ভিতরে কোনো ভালো প্রশিক্ষণ, বিদেশে প্রশিক্ষণ বা প্রমোশনের বিষয়ে যোগ্যতা বা প্রয়োজনীয়তার চেয়ে আসাদুর রহমানের ইচ্ছা বা অনিচ্ছা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে গত প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে। এই ধারা থেকে বের না হতে পারলে একটা পর্যায়ে ভালো অফিসাররা কর্মস্পৃহা হারানোর পাশাপাশি চাকরি নিয়ে অন্যত্র চলে যাবেন এবং মেধাশূন্য হয়ে যাবে জাতীয় এই প্রতিষ্ঠান। বলে রাখা ভালো ইতিমধ্যে ডিএসইর মান তলানিতে ঠেকেছে যা স্পষ্টত প্রতীয়মান।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪