| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৮ কারণে মমতার পরাজয়

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৫, ২০২৬ ইং | ১৩:৪৮:০৬:অপরাহ্ন  |  ২৮৯৫ বার পঠিত
৮ কারণে মমতার পরাজয়
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকার একটি বিশ্লেষণে মোট আটটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো তৃণমূলের দুর্বলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, একাধিক কারণ মিলেই দলটির জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি চাপে পড়তে পারে। সেখানে আটটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে।

১. দীর্ঘ শাসনে ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’

প্রায় দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার ফলে স্বাভাবিকভাবেই শাসকবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে। স্থানীয় স্তরে নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রভাব খাটানো এবং সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে বৈষম্য—এসব অসন্তোষ সময়ের সঙ্গে বেড়েছে।

২. দুর্নীতির অভিযোগে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত

চিটফান্ড থেকে শুরু করে নিয়োগ, রেশন ও অন্যান্য খাতে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলকে চাপে রেখেছে। একাধিক নেতা ও মন্ত্রীর গ্রেপ্তারি জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩. ভোটার তালিকা সংশোধন (ঝওজ) ইস্যু

বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (ঝওজ) ভুয়া বা অকার্যকর ভোটার বাদ পড়ায় নির্বাচনী সমীকরণ বদলে যেতে পারে। এতে শাসকদলের প্রচলিত ভোটব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

৪. তোষণের রাজনীতির অভিযোগ

বিরোধী শিবির দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ তুলে আসছে। সাম্প্রদায়িক ইস্যুগুলোতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা ভোটের ময়দানে প্রভাব ফেলতে পারে।

৫. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়া

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনকালীন বিভিন্ন প্রশাসনিক রদবদল শাসক দলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৬. ‘সন্ত্রাসমুক্ত’ ভোটের পরিবেশ

কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি এবং কড়াকড়ি নজরদারির ফলে ভোটে আগের মতো সহিংসতা বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কমেছে। এতে বিরোধীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেয়েছে বলে ধারণা।

৭. শান্তিপূর্ণ ও বেশি অংশগ্রহণমূলক ভোটগ্রহণ

উচ্চ ভোটার উপস্থিতি এবং তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশে শাসক দলের সংগঠনিক প্রভাব কমে যেতে পারে—এমনই মত বিশ্লেষকদের।

৮. আই-প্যাক ইস্যুতে ধাক্কা

ভোটের আগে কৌশলগত পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক)-এর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় দল কিছুটা চাপে পড়ে। সংগঠনের ভেতরে নির্ভরশীলতা বাড়ায় এ ঘটনার প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়।

এই আটটি কারণ মিলেই তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। যদিও অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছেন ফলে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে ভোটারদের চূড়ান্ত রায়ের ওপর।

সূত্র: আনন্দবাজার

রিপোর্টার্স২৪/ এম এইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪