রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঈদযাত্রায় বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রীমোড় এলাকায়। টানা বৃষ্টির মধ্যেও উত্তরাঞ্চলের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগ বাড়লেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার তাগিদে মানুষ ছুটছে নিজ নিজ গন্তব্যে।
সোমবার (২৫ মে) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রীমোড় এলাকায় যাত্রীদের ভিড় আরও তীব্র হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের ছোট-বড় প্রায় ৪০ শতাংশ পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় একসঙ্গে হাজারো শ্রমিক ঈদযাত্রায় বের হয়ে পড়েন। ফলে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় জনসমাগম ও চাপ।
দীর্ঘ সময়ের বৃষ্টিতে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়। বাস স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় শত শত যাত্রীকে বৃষ্টিতে ভিজেই পরিবহনের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন পরিবার নিয়ে যাত্রা করা মানুষরা।
শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, গাজীপুরে ছোট-বড় প্রায় ৩ হাজার শিল্প কারখানা রয়েছে। ঈদের সময় একসঙ্গে ছুটি দিলে লাখ লাখ শ্রমিক একসঙ্গে রাস্তায় নেমে পড়ে, যার ফলে চরম যানজট ও ভোগান্তি তৈরি হয়। এ কারণে এবার ঈদের আগে তিন ধাপে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়া হচ্ছে, যাতে ধীরে ধীরে শ্রমিকরা নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারেন।
এরই অংশ হিসেবে আজ প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ পোশাক কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে। ছুটি পাওয়ার পর থেকেই শ্রমিকরা গাজীপুর ছাড়তে শুরু করেছেন। সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস, টঙ্গী ও কোনাবাড়ী এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।
বৃষ্টিতে ভিজে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পথে নামা যাত্রীদের মধ্যে কষ্ট থাকলেও ছিল স্বস্তির আবেগও।
শ্রমিক রনি হোসেন বলেন,বাসা থেকে বের হইছি আর বৃষ্টি শুরু হলো। তবুও কিছু করার নাই। বাড়ি তো ফিরতেই হবে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দের কাছে এই কষ্ট কিছুই না।
চন্দ্রা ত্রীমোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী আনোয়ার মিয়া বলেন, সকাল থেকে সব কিছু ভালো ছিল, হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় অনেক অসুবিধায় পড়েছি। এখন গাড়িতেও উঠতে পারছি না, আবার কোথাও দাঁড়ানোর জায়গাও নেই।
এ বিষয়ে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাউগাতুল আলম বলেন, ঈদযাত্রায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অনেক বেশি। বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা ভিজেই দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এখনো বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি।
তিনি আরও জানান, বিকেল থেকে চাপ আরও বাড়বে এবং আগামীকাল পর্যন্ত ঈদযাত্রার তীব্র চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম