| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দুই হাজার টাকার চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়, লোকসানে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ৩০, ২০২৬ ইং | ১৫:৪৩:৫১:অপরাহ্ন  |  ৪৩৫ বার পঠিত
দুই হাজার টাকার চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়, লোকসানে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও রাজধানীর পোস্তা কাঁচা চামড়ার আড়তে চলছে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা ও সংরক্ষণের কার্যক্রম। আড়তগুলোতে শ্রমিকরা চামড়ায় লবণ মেখে সংরক্ষণের কাজ চালিয়ে গেলেও বাজারে দামের ব্যাপক পতনে হতাশা দেখা দিয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

সরকার নির্ধারিত দরের তুলনায় অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি হওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন মৌসুমি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, যেখানে বড় আকারের গরুর চামড়ার সরকারি নির্ধারিত দাম প্রায় ২ হাজার টাকা, বাস্তবে সেই একই চামড়া আড়তে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। কোথাও কোথাও দাম আরও কমে ৫০০ টাকার আশপাশে নেমে এসেছে।

শনিবার (৩০ মে) পোস্তা আড়ত ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে চামড়া আনা হচ্ছে। আড়ত এলাকায় চামড়ার স্তূপের পাশাপাশি শ্রমিকদের দ্রুত লবণ মেখে সংরক্ষণের কাজ করতে দেখা গেছে। তবে সরবরাহ বেশি হলেও ক্রেতার তুলনামূলক কম আগ্রহের কারণে দাম নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও ব্যক্তিপর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহের সময় তারা সরকারি নির্ধারিত দরের ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু আড়তে এসে সেই চামড়া অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে পরিবহন, শ্রম ও সংরক্ষণ খরচ বাদ দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

আড়তদারদের দাবি, ট্যানারি মালিকদের কাছে বড় অঙ্কের বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ট্যানারি খাতে নগদ অর্থ সংকট থাকায় চাহিদা অনুযায়ী চামড়া কেনা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বাজারে তারল্য সংকট তৈরি হয়ে দাম আরও কমে গেছে।

একাধিক আড়তদার জানান, সময়মতো অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় ট্যানারিগুলোও সীমিত পরিসরে চামড়া কিনছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারদরে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি বছর সরকার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন হয় না। ফলে কোরবানির চামড়া থেকে ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন সংগ্রাহক, মৌসুমি ব্যবসায়ী, এমনকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও।

এবার সরকার ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে বাস্তবে সেই দাম কার্যত কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি পিস গরুর চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছাগলের চামড়ার বাজারেও ক্রেতার আগ্রহ প্রায় নেই বললেই চলে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্যানারি মালিকদের বকেয়া পরিশোধ, বাজারে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত না হলে কাঁচা চামড়ার বাজারে এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪