| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জাতির প্রতিটি সংকটে পথ দেখিয়েছেন জিয়াউর রহমান: রিজভী

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ৩০, ২০২৬ ইং | ১৭:০০:৩২:অপরাহ্ন  |  ২৮৬ বার পঠিত
জাতির প্রতিটি সংকটে পথ দেখিয়েছেন জিয়াউর রহমান: রিজভী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতির সামনে মুক্তির দিশারি, আলোকবর্তিকা ও পথপ্রদর্শক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি জাতির জন্য একটি সুস্পষ্ট উন্নয়নের পথরেখা তৈরি করে গেছেন।

শনিবার (৩০ মে) রাজধানীর হাইকোর্টের সামনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ১৯৭১ সালে যখন দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। তার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করেছে এবং শহীদ জিয়ার অবদানকে আড়াল করতে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে দেশে গণতন্ত্রের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। সে সময় রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছিল। শহীদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার নেতৃত্বেই দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

ফারাক্কা বাঁধ প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক পরিসরে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। দেশের নদ-নদী ও পানি সম্পদ রক্ষায়ও তিনি ছিলেন সোচ্চার।

পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার দর্শন ছিল‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে গোলামি নয়’। এই নীতির মাধ্যমে তিনি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে সরাসরি উপকৃত করবে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী। স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তার অবদান আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত করে।

বিএনপির দুঃসময়ে আইনজীবীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের সময় আইনজীবীরাই বিএনপি নেতাকর্মীদের অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম বদরুদ্দোজা বাদল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। এছাড়া বিএনপি ও আইনজীবী অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪