| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে নতুন সতর্কতা, ভয়াবহতার মুখোমুখি হতে পারে বিশ্ব

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৫, ২০২৬ ইং | ১১:২২:১৯:পূর্বাহ্ন  |  ১৮৮৬ বার পঠিত
‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে নতুন সতর্কতা, ভয়াবহতার মুখোমুখি হতে পারে বিশ্ব

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশের ৪৮টি জেলায় মৃদু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার মধ্যেই আবহাওয়ার বিশেষ পরিস্থিতি ‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে নতুন সতর্কতা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে বিশ্বে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। এই প্রভাব শুরু হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ও চরম আবহাওয়ার প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপার এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে তাপপ্রবাহের সময়কাল ও তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। আগে বছরে এক-দু’বার কয়েকদিনের তাপপ্রবাহ দেখা গেলেও এখন তা বছরে চার–পাঁচবার বা তারও বেশি হচ্ছে।

তারা আরও সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। এল নিনো সক্রিয় হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, সুপার এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র দাবদাহ, অস্বাভাবিক বৃষ্টি, খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। এর ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীরা বিশ্লেষণে জানিয়েছেন—আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সুপার এল নিনো সক্রিয় হতে পারে এবং এর প্রভাব নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বিজ্ঞান খুবই স্পষ্ট—৯০ শতাংশ সম্ভাবনায় এল নিনো আসছে, যা বিশ্বকে জরুরি সতর্কতার মধ্যে নিয়ে এসেছে।তিনি আরও বলেন, উষ্ণ বিশ্বের ওপর এই প্রভাব ‘আগুনে ঘি ঢালার’ মতো হবে এবং সীমান্ত ছাড়িয়ে আরও ব্যাপক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে চালসহ প্রধান খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্যাটেলাইট ডেটা সংস্থা স্কাইফাই জানিয়েছে, এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যে খরার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

ভারতে মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় সেখানে কৃষি উৎপাদনে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই পরিস্থিতি থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স ও ইন্দোনেশিয়াতেও দেখা দিচ্ছে, যেখানে ধান রোপণ ও কৃষি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বের মোট চাল রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে ভারত—ফলে সরবরাহ সংকটের প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষভাগে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো দেখা দিতে পারে, যা এশিয়ায় তীব্র খরা এবং আমেরিকায় অতিবৃষ্টি ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত জলবায়ু সুরক্ষা পদক্ষেপ না নিলে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। 

রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪